
ভোটের আগে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তরবঙ্গের রাজনীতি। কোচবিহারের মাথাভাঙায় বিজেপি প্রার্থীদের ঘিরে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ এবং এক মহিলা প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত মাঠে নামতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় রবিবার সন্ধ্যায়, যখন প্রচারে বেরিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী Nisith Pramanik। অভিযোগ, মাথাভাঙার ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় তাঁর প্রচার চলাকালীন তৃণমূল কর্মীরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বচসা দ্রুত হাতাহাতিতে পরিণত হয়। সংঘর্ষে এক তৃণমূল কাউন্সিলরসহ বেশ কয়েকজন আহত হন বলে অভিযোগ। ঘটনার পরই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে চরম উত্তেজনা, এবং দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তোলে।
এর মধ্যেই আরও চাঞ্চল্য ছড়ায় যখন শীতলখুচি কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সাবিত্রী বর্মণের গাড়ি আক্রান্ত হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বলা হচ্ছে, উত্তেজিত জনতা পুলিশের সামনেই তাঁর গাড়িতে চড়াও হয়ে ভাঙচুর চালায়। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায় গোটা এলাকায়।
সাবিত্রী বর্মণ অভিযোগ করেন, “একজন মহিলা প্রার্থীর ওপর এই ধরনের হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য, পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকেও কিছু করতে পারেনি।” তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই তাঁদের প্রচারে বাধা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক দাবি করেন, তাঁদের প্রচার নির্ধারিত রুট মেনেই চলছিল। হঠাৎ করেই তৃণমূল কর্মীরা ইট-পাথর ছুড়ে হামলা চালায়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পরিস্থিতি যদি এভাবে চলতে থাকে, তবে এর জবাব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্ব পাল্টা অভিযোগ করে জানায়, এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর জন্য বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানি দিচ্ছে এবং তার জবাব দিতেই স্থানীয়রা প্রতিবাদে নামেন। যদিও এই ঘটনার পর তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাথাভাঙা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হিমশিম খেলে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী এলাকায় টহল শুরু করে।
ভোটের আগে এই ধরনের সংঘর্ষে ফের প্রশ্নের মুখে পড়ল রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনের প্রস্তুতি। কোচবিহারের এই অশান্তি এখন রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।
