
পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি কেন্দ্রকে ঘিরে ভোটের আগে ফের তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল। এবার বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটারদের মদ খাইয়ে প্রভাবিত করার গুরুতর অভিযোগ তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। অভিযোগ জানিয়ে সরাসরি রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ Derek O’Brien।
তৃণমূলের দাবি, দক্ষিণ কাঁথি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অরূপ কুমার দাস এবং স্থানীয় কিছু বিজেপি নেতা ভোটারদের মধ্যে বিনামূল্যে মদ বিতরণ করছেন। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, কাঁথি-১ ব্লকের মহিষাগোট গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৯৬ নম্বর বুথ এলাকায় প্রকাশ্যে এই ধরনের কার্যকলাপ চলছে এবং এর মাধ্যমে ভোটারদের বিজেপির পক্ষে ভোট দিতে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এই অভিযোগপত্রে নির্দিষ্টভাবে নাম উঠে এসেছে স্থানীয় বিজেপি কর্মী চন্দ্রশেখর গিরি এবং তাঁর স্ত্রী, বিজেপি মহিলা মোর্চার নেত্রী মিনতি গিরির। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা এলাকায় মদ বিলি করে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর।
এই বিষয়ে তৃণমূলের দাবি, এটি শুধুমাত্র আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন নয়, বরং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১ এবং মডেল কোড অফ কন্ডাক্টের স্পষ্ট লঙ্ঘন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে Election Commission of India-কে অবিলম্বে ফ্লাইং স্কোয়াড এবং নজরদারি দল পাঠিয়ে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সংগঠিত প্রচেষ্টা। ভোটারদের প্রলোভন ও প্রভাবিত করার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ এবং লজিস্টিকস ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এছাড়াও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শোকজ এবং কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে কমিশনের কাছে। পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচার থেকে তাঁদের দূরে রাখার আবেদনও জানিয়েছে তৃণমূল।
অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কাঁথি দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি নেতা Suvendu Adhikari-র শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হওয়ায় এই অভিযোগকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।
তবে এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত বিজেপির পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফলে বিতর্ক আরও বাড়ছে।
ভোটের ঠিক আগে এই ধরনের অভিযোগে কাঁথির রাজনৈতিক আবহ কার্যত টানটান হয়ে উঠেছে। কমিশন শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ ভোটার সবাই।
