
রায়গঞ্জে ভোট প্রক্রিয়া শুরুর আগেই ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বাড়িতে গিয়ে ভোটগ্রহণ চলাকালীন এক বৃদ্ধার মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল মাড়াইকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ভিটি বুথ এলাকায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতরও শুরু হয়েছে, প্রশ্ন উঠছে ভোট প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি নিয়ে।
জানা গেছে, সোমবার সকালে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী রায়গঞ্জ বিধানসভার ওই এলাকায় বয়স্ক ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ভোট নেওয়া হচ্ছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোটকর্মীরা স্থানীয় বাসিন্দা কালু শেখের বাড়িতে পৌঁছান। সেই সময়ই শুরু হয় পরিস্থিতির জটিলতা।
পরিবারের অভিযোগ, ভোট গ্রহণ চলাকালীন কালু শেখের বিশেষভাবে সক্ষম মেয়েকে ভোট প্রক্রিয়ায় উপস্থিত থাকতে দেওয়া হয়নি। ভোটকর্মীরা জানান, পরিবারের অন্য কেউ ভোট কক্ষে থাকতে পারবেন না, প্রিসাইডিং অফিসারই পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করবেন। এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা।
ক্রমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এলাকায় রাজনৈতিক কর্মী ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে জমে যায় উত্তেজনা। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী সেখানে থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ে।
এর মধ্যেই আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন কালু শেখের স্ত্রী তফিজান বিবি। পরিবারের দাবি, ভোট প্রক্রিয়ার চাপ ও আতঙ্কের মধ্যেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁকে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক অনুমান, হৃদরোগ বা স্ট্রোকের কারণে মৃত্যু হতে পারে।
ঘটনার পরেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভ ও শোক। মৃতার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, ভোট গ্রহণের সময় তৈরি হওয়া চাপ ও বিশৃঙ্খলার কারণেই এই মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের দাবি, পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীলভাবে সামলানো উচিত ছিল।
অন্যদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বও ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এক পক্ষের অভিযোগ, ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে তাড়াহুড়ো ও অস্পষ্ট নির্দেশের কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, বয়স্ক ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য বাড়িতে ভোটগ্রহণ ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত ও নিরাপদ। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, এমন সংবেদনশীল প্রক্রিয়ায় আরও সতর্কতা প্রয়োজন ছিল।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে পুরো ঘটনার তদন্ত ও রিপোর্ট তলব করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
রায়গঞ্জের এই ঘটনা এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুই মহলেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ভোটের আগেই এমন মৃত্যু ঘিরে গোটা এলাকায় ছড়িয়েছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ।
