
বৈধ পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে তীব্র মন্তব্য করল Supreme Court of India।
আদালত স্পষ্ট জানায়, রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের টানাপোড়েনের মাঝে পড়ে সাধারণ ভোটাররা কার্যত “পিষ্ট” হচ্ছেন। বিচারপতির পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, দুই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দ্বন্দ্বে নাগরিকদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, তা গভীরভাবে ভাবার বিষয়।
মামলাকারীদের অভিযোগ ছিল, বৈধ পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, এবং অনেক ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট কারণও জানানো হয়নি। যদিও আদালত সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে জানায়, আবেদনকারীদের ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হতে হবে। একই সঙ্গে বিচারপতিরা বলেন, প্রশাসনিক বা বিচারিক স্তরে ভুল হতে পারে, কিন্তু সেই কারণে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়।
এই পুরো বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের SIR প্রক্রিয়া। ইতিমধ্যেই রাজ্যে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে। চূড়ান্ত ও খসড়া তালিকা মিলিয়ে এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে রাজ্যের ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ। বিভিন্ন ধাপে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার পর এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছে ২৭ লক্ষের বেশি “Under Adjudication” ভোটারের ভবিষ্যৎ।
এই পরিস্থিতিতে নজর রয়েছে West Bengal-এর রাজনৈতিক মহল ও লক্ষ লক্ষ ভোটারের দিকে। কারণ আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই নাম বাদ যাওয়ার প্রভাব সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
অন্যদিকে, Election Commission of India-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়ার যুক্তি ও প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না আসায় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই সংঘাত এখন রাজনৈতিক নয়, বরং সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। শীর্ষ আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ ভোটার, যাদের ভবিষ্যৎ ভোটাধিকার এখন অনিশ্চয়তার ছায়ায়।
