মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিবাসন এবং নাগরিকত্ব নিয়ে একাধিক কঠোর নীতি কার্যকর করেছেন। তাঁর প্রথম দিনেই স্বাক্ষরিত একাধিক নির্বাহী নির্দেশিকায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার বাতিল এবং অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে লক্ষাধিক ভারতীয় অভিবাসী এবং তাঁদের সন্তানদের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়তে চলেছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অবৈধ অভিবাসীদের মার্কিন মুলুকে জন্ম নেওয়া সন্তানরা আর নাগরিকত্ব পাবে না। এমনকি বৈধ ভিসাধারী অভিভাবকদের সন্তানের ক্ষেত্রেও নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে, যদি তাদের মধ্যে একজনও স্থায়ী বাসিন্দা না হন। এই নিয়ম কার্যকর হবে ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে।
এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকরের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। জয়শংকর স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারত সবসময় অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত নিতে প্রস্তুত। তিনি বলেছেন, “ভারতীয় অভিবাসীদের নিজেদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আমাদের নীতি সবসময়ই ইতিবাচক। এটি কেবল আমেরিকার ক্ষেত্রেই নয়, সব দেশের জন্যই প্রযোজ্য।”
মার্কিন অভিবাসন দফতরের তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে আমেরিকায় অবৈধভাবে প্রবেশ করতে চাওয়া চতুর্থ সর্বোচ্চ সংখ্যক অভিবাসী ভারতীয়। এছাড়া ২০২৩ সালে ভারতীয় এইচ১বি ভিসাধারীদের ২ লাখেরও বেশি সন্তান মার্কিন মুলুকে জন্মগ্রহণ করেছে, যারা জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার পেয়েছিল। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী, তারা আর সেই অধিকার পাবে না।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ২৯ লাখ ভারতীয় অভিবাসীর মধ্যে অনিশ্চয়তা এবং উদ্বেগ বেড়েছে। নাগরিকত্বের এই নিয়মে পরিবর্তনের ফলে লক্ষাধিক ভারতীয় পরিবারকে ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।
