
জগদ্দলে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে চরমে পৌঁছেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভার আগে হওয়া তৃণমূল–বিজেপি সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে। রবিবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় থানার ভেতরেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলেও এলাকায় দীর্ঘক্ষণ অস্থিরতা বজায় থাকে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে থানায় একটি অভিযোগ সংক্রান্ত কাগজপত্র সংগ্রহকে ঘিরে। বিজেপি পক্ষের দাবি অনুযায়ী, তাদের প্রার্থী রাজেশ কুমার যখন আইনি কাজ সারছিলেন, তখন হঠাৎ করেই স্থানীয় তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকরা সেখানে উপস্থিত হয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। অভিযোগ, সেই সময় পরিস্থিতি দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হয় যখন খবর পৌঁছায় যে, বিজেপি প্রার্থীর উপর হামলা চালানো হয়েছে। এরপরই দলীয় কর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান অর্জুন সিং। তাঁর অভিযোগ, পুরো ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংঘটিত হয়েছে।
বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, “প্রধানমন্ত্রীর সভা বানচাল করতেই এই অশান্তি তৈরি করা হয়েছে এবং পবন সিং ও রাজেশ কুমারকে টার্গেট করা হয়েছিল।” তাঁর আরও অভিযোগ, হামলার সময় তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপরও আক্রমণের চেষ্টা হয় এবং নিরাপত্তারক্ষী পর্যন্ত আহত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের সময় থানার ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়, যদিও পরবর্তীতে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ, কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী ও কাউন্সিলরও রয়েছেন বলে জানা গেছে। আরও কয়েকজনের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোট ১৫ জনের বিরুদ্ধে তল্লাশি অভিযান চালানো হলেও এখনও পর্যন্ত চারজনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের সন্ধানে একাধিক এলাকায় অভিযান চলছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলছে, যা জগদ্দলের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে বিজেপি নেতৃত্ব ঘটনার তদন্ত জাতীয় তদন্ত সংস্থার হাতে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে, অন্যদিকে শাসকদল অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। পরিস্থিতি আপাতত থমথমে থাকলেও এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
