
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ শুরু হতেই রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে দেখা গেল দুই ভিন্ন ছবি একদিকে উৎসবমুখর ভোটারদের দীর্ঘ লাইন, অন্যদিকে একাধিক জায়গায় উত্তেজনা ও প্রযুক্তিগত সমস্যার খবর। সকাল ৭টা থেকে ভোট শুরু হওয়ার পরই বিভিন্ন জেলায় ভোটারদের সক্রিয় উপস্থিতি নজর কাড়ে।
কলকাতার বিভিন্ন বুথে ভোর থেকেই ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা যায়। সাধারণত দেরিতে ভোট দিতে বেরোনোর প্রবণতা থাকলেও এদিন ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা যায় তিলোত্তমায়। অনেকেই এই ভোটকে “গণতন্ত্রের উৎসব” হিসেবে দেখছেন। প্রথম দফায় রেকর্ড ভোটদানের পর দ্বিতীয় দফাতেও সেই ধারা বজায় থাকবে কি না, তা নিয়েই জল্পনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, সকাল সকাল রাস্তায় নেমে বুথ পরিদর্শন করতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-কে। ভবানীপুরের একাধিক বুথে টহল দেন তিনি। অন্যদিকে, একই কেন্দ্রে পৌঁছন বিজেপি নেতা Suvendu Adhikari, যিনি দলীয় কন্ট্রোল রুমে গিয়ে ভোট পরিস্থিতির খোঁজ নেন।
তবে উৎসবের আবহের মাঝেও একাধিক জায়গায় সমস্যার খবর সামনে এসেছে। হাওড়া, বারাসত, কামারহাটি, যাদবপুর-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রে ইভিএম বিভ্রাটের অভিযোগ ওঠে, যার ফলে ভোটগ্রহণ বিলম্বিত হয়। কোথাও কোথাও ভোট শুরুর পরও দীর্ঘক্ষণ ভোট প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি, ফলে বুথের বাইরে অপেক্ষমাণ ভোটারদের ভোগান্তি বাড়ে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক উত্তেজনার ঘটনাও সামনে এসেছে। রাসবিহারী কেন্দ্রে কংগ্রেসের বুথ এজেন্টকে ভিতরে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভবানীপুরে চারজনের বেশি জমায়েত না করার নির্দেশ ঘিরে মুখ্যমন্ত্রীর ভাইকে পুলিশ হুঁশিয়ারি দিয়েছে বলেও জানা গেছে।
ভোট দিয়ে বেরিয়ে তৃণমূল নেতা Abhishek Banerjee নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ তুলে বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে। তবে তিনি সাধারণ মানুষের উপর আস্থা রেখে দাবি করেন, ফলাফল তাদের পক্ষেই যাবে।
সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় দফার ভোটের সকালেই স্পষ্ট, একদিকে গণতান্ত্রিক উৎসবে মানুষের অংশগ্রহণ, অন্যদিকে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন। এখন নজর ভোটদানের হার এবং দিনের শেষে পরিস্থিতি কতটা শান্তিপূর্ণ থাকে তার ওপর।
