
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘিরে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার পর এবং সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও সমাজমাধ্যমে নিজের পরিচয় পরিবর্তন করেননি পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফেসবুক, এক্স (পূর্বতন টুইটার) ও ইনস্টাগ্রাম—সব জায়গাতেই এখনও তিনি নিজেকে “পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী” হিসেবেই উল্লেখ করছেন।
নিয়ম অনুযায়ী, সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর পরিচয়ের আগে “প্রাক্তন” শব্দ যুক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও অফিসিয়াল সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টে সেই পরিবর্তন করা হয়নি। পাশাপাশি তাঁর প্রোফাইলে তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন হিসেবে পরিচয় থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী পদে কোনও আপডেট করা হয়নি বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক মহলে এই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। প্রশাসনিক সূত্রের একাংশের মতে, সাধারণত সরকার পরিবর্তনের পর পরই প্রশাসনিক ও প্রোটোকল অনুযায়ী সমাজমাধ্যমের পরিচয় হালনাগাদ করা হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রক্রিয়া হয়নি বলে নজর কাড়ছে বিষয়টি।
অন্যদিকে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত। বিরোধীদের দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী বারবার অভিযোগ করেছেন যে, ভোট প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে এবং সেই কারণেই তিনি পদত্যাগ করেননি বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য।
এদিকে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার পর রাজ্যের শাসনব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগে প্রশাসনিক দায়িত্ব কে সামলাবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যপালই সরাসরি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সমাজমাধ্যমে পরিচয় না বদলানো একটি প্রতীকী বার্তা হিসেবেও দেখা যেতে পারে। এটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয় না হলেও রাজনৈতিকভাবে এর প্রভাব পড়তে পারে বলেই মত তাঁদের।
বর্তমানে নজর রয়েছে আগামী দিনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং নতুন সরকারের শপথগ্রহণের দিকে। তার আগেই এই সমাজমাধ্যম বিতর্ক রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
