
সমাজে জাতপাতের বিভেদ কমাতে আন্তঃবর্ণ বিয়েকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানালেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত। কর্নাটকের মহীশূরে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সমাজে যদি মানুষ নিজেরাই জাতপাতের বিভেদ ভুলে যায়, তাহলে রাজনীতিতেও এর অপব্যবহার বন্ধ হয়ে যাবে।
ভাগবত বলেন, বর্তমানে রাজনৈতিক স্বার্থে অনেক সময় জাতপাতকে ব্যবহার করা হয় ভোট পাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে। কিন্তু সাধারণ মানুষ যদি এই বিভাজন থেকে বেরিয়ে আসেন, তাহলে রাজনীতিকরাও বাধ্য হবেন এই পথ ত্যাগ করতে।
তিনি আরও বলেন, আন্তঃবর্ণ বিয়ে সমাজে পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে। তাঁর মতে, যারা এই ধরনের বিয়ে করছেন, তাঁদের সমাজের সমর্থন পাওয়া উচিত, কারণ এতে বিভেদ কমার পথ খুলে যায়। শুধু আইন নয়, সামাজিক মানসিক পরিবর্তনও প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে তিনি আরএসএস-এর প্রাক্তন নেতৃত্বের উদাহরণ টেনে বলেন, অতীতেও কিছু ক্ষেত্রে আন্তঃবর্ণ বিয়েকে সমর্থন জানানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
ভাগবত বলেন, দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত ভাষা ও আচরণেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। অনেক সময় অজান্তেই ব্যবহৃত শব্দ বা আচরণ অন্যের মধ্যে বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি করতে পারে। তাই ছোট ছোট সামাজিক পরিবর্তনের মাধ্যমেই বড় পরিবর্তন সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, জাতপাতকে সম্পূর্ণভাবে অগ্রাহ্য করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। সমাজে এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে কেউ নিজেকে আলাদা বা ছোট মনে না করে। এই লক্ষ্যেই সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান আরএসএস প্রধান।
মোহন ভাগবতের এই বক্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ এটিকে সামাজিক সংস্কারের বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করছেন।
