প্রথমেই তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল চিনা স্টার্টআপ সংস্থা ডিপসিকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ‘ডিপসিক-আর১’ চ্যাটবট বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু জনপ্রিয়তার মধ্যেই নেমে এল সরকারি নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া। ইতালি, তাইওয়ান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত-সহ একাধিক দেশ এই অ্যাপের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, ‘ডিপসিক-আর১’ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ নয়। ইতালির তথ্য সুরক্ষা সংস্থা (ডিপিএ) প্রথমেই উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং ২০ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা চায়। সংস্থার উত্তর যথেষ্ট না হওয়ায় ইতালি দ্রুত অ্যাপটি নিষিদ্ধ করে। গুগ্ল প্লে স্টোর এবং অ্যাপ স্টোর থেকেও এটি সরিয়ে নেওয়া হয়। ইউরোপের ভোক্তা অধিকার সংগঠন ‘ইউরোকনজ়িউমারস’-এর অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ বলে জানা যায়।
তাইওয়ান সরকার আরও কঠোর। তাদের ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘ডিপসিক-আর১’-কে জাতীয় তথ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে ঘোষণা করেছে। সরকারি সংস্থা, স্কুল-কলেজ থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান— সর্বত্র এই চ্যাটবট নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাদের মতে, চিনা মালিকানাধীন এই সংস্থা সরকারি নথি পাচার করতে পারে।
ভারতও একই শঙ্কা প্রকাশ করেছে। দেশটির অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, সরকারি কম্পিউটার ও ডিভাইসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে না। ২৯ জানুয়ারি এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি হয়। মন্ত্রকের দাবি, এই ধরনের এআই অ্যাপ থেকে গোপন নথি ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি প্রবল।
অস্ট্রেলিয়াও ইতিমধ্যেই সরকারি ডিভাইসে ‘ডিপসিক’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ— আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়াম এবং নেদারল্যান্ডসের তথ্য সুরক্ষা সংস্থাগুলিও অ্যাপটির কার্যপ্রণালী নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিশ্বজুড়ে ‘ডিপসিক-আর১’-এর উপর এই নিষেধাজ্ঞা যে চিনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে, তা স্পষ্ট। তবে সংস্থাটি ভবিষ্যতে এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে কি না, সেটাই এখন দেখার।
