নয়া দিল্লি রেলস্টেশনে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন। মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে ভারতীয় রেল। আহতদের মধ্যে গুরুতরদের ২.৫ লক্ষ এবং সামান্য আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ১৪ জন মহিলা এবং অন্তত ২ জন শিশু রয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্য পরিবারগুলি প্রশাসনকে দায়ী করছে।
ঘটনাটির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে উত্তর রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক হিমাংশু শেখর জানান, “প্ল্যাটফর্ম ১৪ ও ১৫-তে ভিড় ছিল প্রচণ্ড। এই অবস্থায় একজন যাত্রী সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পিছলে পড়েন। তার জেরেই কয়েকজন পড়ে যান এবং মুহূর্তের মধ্যেই বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।”
শনিবার রাতে মহাকুম্ভ মেলায় যোগ দিতে হাজার হাজার পুণ্যার্থী নয়া দিল্লি স্টেশনে ভিড় করেছিলেন। প্রয়াগরাজের উদ্দেশ্যে তিনটি ট্রেন ছাড়ার কথা থাকলেও, দু’টি ট্রেন দেরিতে আসায় প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত ভিড় জমে যায়।
রেলের ডিসিপি কেপিএস মালহোত্রা জানান, “প্রয়াগরাজ এক্সপ্রেস ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিল, অন্যদিকে স্বতন্ত্র সেনানি এক্সপ্রেস এবং ভুবনেশ্বর রাজধানী এক্সপ্রেস দেরি করায় ১২ ও ১৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে প্রচুর যাত্রী অপেক্ষা করছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।”
দুর্ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় রেল। স্টেশনের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে। ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদি মুর্মু, কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধি ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
রেল সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই দুর্ঘটনা কি শুধুমাত্র একজনের পা পিছলে পড়ার জন্যই, নাকি নিরাপত্তায় গাফিলতির ফল— তা খতিয়ে দেখা হবে।
