সোমবার ভোরে ঘুম ভাঙার আগেই কেঁপে উঠল রাজধানী দিল্লি। জাতীয় সিসমোলজি কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ভোর ৫টা ৩৫ মিনিট নাগাদ ৪.০ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয় দিল্লি এবং উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল দিল্লির খুব কাছেই, মাত্র ৫ কিলোমিটার গভীরে।
আচমকা কম্পন অনুভূত হতেই আতঙ্কে রাস্তায় নেমে পড়েন বহু বাসিন্দা। যদিও ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ড, তবে এর প্রভাব যথেষ্ট তীব্র ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, হঠাৎ করেই সব কিছু দুলতে শুরু করে, মনে হচ্ছিল বড় কিছু হতে চলেছে।
ভূমিকম্পের ফলে এখনও পর্যন্ত কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লি সিসমিক জোন-৪-এর অন্তর্গত হওয়ায় মাঝারি থেকে বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি বরাবরই থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লিতে ভূমিকম্পের ঘটনা বাড়ছে, যা বিশেষ উদ্বেগের বিষয়।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জানুয়ারিতেই দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে দুইবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। ২৩ জানুয়ারির ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল চিনের শিনজিয়াং, যেখানে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। এর আগে ১১ জানুয়ারি আফগানিস্তানে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছিল দিল্লিতেও।
বিশেষজ্ঞরা নাগরিকদের ভূমিকম্পের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার পরামর্শ, ভূমিকম্প অনুভূত হলে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেওয়া বা মজবুত আসবাবের নিচে সুরক্ষিত থাকা উচিত। ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও, ভূমিকম্পের মাত্রা বাড়লে পরবর্তী সময়ে আরও সতর্কতার প্রয়োজন হতে পারে।
