মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। তাঁর দাবি, আমেরিকা ভারতকে ২১ মিলিয়ন ডলার অর্থসাহায্য দিচ্ছিল, যা হঠাৎই বন্ধ করা হয়েছে। যদিও পরে জানা যায়, এই অর্থ আসলে ভারতের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য ছিল। তবুও এই বিতর্ক নতুন করে অতীতের কিছু প্রসঙ্গকে সামনে এনেছে, যেখানে দাবি করা হয়, কংগ্রেস অতীতে আমেরিকার কাছ থেকে কমিউনিস্টদের দমন করতে অর্থসাহায্য নিয়েছিল।
১৯৫৭ সালে কেরলে ভারতের প্রথম অকংগ্রেসি সরকার ক্ষমতায় আসে। ইএমএস নাম্বুদ্রিপাদের নেতৃত্বে কমিউনিস্ট পার্টির সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই আমেরিকা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি আইজেনহাওয়ার কংগ্রেসকে অর্থসাহায্য করেন, যাতে এই সরকার ফেলে দেওয়া যায়। কারণ, আমেরিকা মনে করত, সোভিয়েত রাশিয়া ও চীনের বাইরে কমিউনিস্টদের শক্তিবৃদ্ধি বিশ্ব রাজনীতিতে তাদের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
এই ধরনের হস্তক্ষেপ শুধু ভারতে নয়, ইরানেও হয়েছিল। ১৯৫৩ সালে “অপারেশন আজাক্স”-এর মাধ্যমে মার্কিন সিআইএ ইরানের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ মোসাদ্দেগকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়, কারণ তার ওপর কমিউনিস্ট প্রভাব ছিল।
কেরলের প্রথম কমিউনিস্ট সরকারকে ফেলার জন্য ১৯৫৯ সালে সিআইএ এবং মার্কিন ইনফরমেশন সার্ভিস (USIS) কংগ্রেসকে প্রচুর পরিমাণে অর্থসাহায্য করেছিল বলে অভিযোগ। দু’বছরের মধ্যেই কেরলের কমিউনিস্ট সরকার শিক্ষা ও ভূমি সংস্কারের মতো নীতিগুলি কার্যকর করছিল, যা কংগ্রেসের মতো পার্টির জমিদার-ভিত্তিক রাজনীতির পরিপন্থী ছিল।
শেষমেশ প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করে ৩১ জুলাই, ১৯৫৯ সালে কেরলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেন এবং কমিউনিস্ট সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেন। বহু বিশেষজ্ঞ একে সংবিধানের ৩৫৬ ধারার অন্যতম অপব্যবহার বলে অভিহিত করেছেন।
এই বিষয়টি আরও সামনে আসে যখন মার্কিন প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত এবং সেনেটর ড্যানিয়েল প্যাট্রিক মইনিহান তাঁর ১৯৭৮ সালের স্মৃতিকথা A Dangerous Place-এ উল্লেখ করেন যে, কীভাবে আমেরিকা ভারতের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছিল এবং কংগ্রেসকে অর্থসাহায্য দিয়েছিল। তিনি লেখেন, ১৯৬০-এর দশকে পশ্চিমবঙ্গে কমিউনিস্টদের দুর্বল করতে এবং কেরলে পুনরায় কংগ্রেসকে ক্ষমতায় ফেরাতে আমেরিকা গোপনে অর্থসাহায্য করেছিল।
এই পুরনো তথ্যের প্রেক্ষিতে আজকের বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। যদিও এখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন, কিন্তু অতীতে বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং অর্থসাহায্য নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা ফের প্রশ্নের মুখে।
