সুচিত্ত চৌধুরী
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ থেকে তিন দিনের সফরে মধ্যপ্রদেশ, বিহার এবং অসমে যাচ্ছেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য হল বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন এবং নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। এই তিনটি রাজ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ঘোষণা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের গতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
প্রথম দিনে, প্রধানমন্ত্রী মোদী মধ্যপ্রদেশের ছতারপুর জেলায় যাবেন, যেখানে তিনি বাগেশ্বর ধাম মেডিকেল অ্যান্ড সায়েন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। মধ্যপ্রদেশ সরকার ও কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই হাসপাতালটি রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এরপর প্রধানমন্ত্রী মোদী বিহারের ভাগলপুরে যাবেন, যেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM KISAN) প্রকল্পের ১৯তম কিস্তি প্রকাশ করবেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রায় ৯.৭ কোটি কৃষক সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবেন। মোট ২১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার এই অনুদান কৃষকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রদান করবে এবং কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে। এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী বিহারে অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।
সফরের শেষ দিনে, প্রধানমন্ত্রী মোদী অসমের গুয়াহাটিতে যাবেন। সেখানে তিনি ‘ঝুমোর বিনন্দিনী’ (Mega Jhumoir) ২০২৫ ইভেন্টে অংশ নেবেন, যা রাজ্যের চা শিল্পের ২০০ বছর পূর্তির উৎসব হিসেবে আয়োজিত হচ্ছে। চা শিল্প অসমের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি, আর এই উদযাপন রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও শিল্পায়নের পথে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
এছাড়াও, গুয়াহাটিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী ‘অ্যাডভান্টেজ আসাম 2.0 ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সামিট ২০২৫’-এর উদ্বোধন করবেন। এই সামিটের লক্ষ্য রাজ্যে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করা এবং অসমকে ভারতের অন্যতম শিল্প ও বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার মাধ্যমে এই উদ্যোগ উত্তর-পূর্ব ভারতের সার্বিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই তিন দিনের সফর বিভিন্ন রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকে আরও গতিশীল করবে। মধ্যপ্রদেশ, বিহার এবং অসমে একাধিক অবকাঠামো, কৃষি, স্বাস্থ্য এবং শিল্প সংক্রান্ত প্রকল্পের সূচনা দেশবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সহায়ক হবে। সরকারের এই উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
