বীরভূমের মাটি যেন বিস্ফোরণের অপেক্ষায়! তৃণমূলের ভেতরে দাউ দাউ করে জ্বলছে বিদ্রোহের আগুন। একদিকে অনুব্রত (কেষ্ট) মণ্ডল—যিনি দীর্ঘদিন ধরে বীরভূমের একচ্ছত্র শাসক ছিলেন, অন্যদিকে কাজল শেখ—কেষ্টর অবর্তমানে জমি দখল করে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব সাম্রাজ্য। কিন্তু আসল প্রশ্ন—কে এই লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসবে?
তিহাড়ের কারাগার থেকে বেরিয়ে অনুব্রত মণ্ডল যখন ফের বীরভূমে পা রাখলেন, তখন থেকেই শুরু হয়েছে অঘোষিত যুদ্ধ। কেষ্ট ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই দলে পুরনো দাপট ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। সভা, সমাবেশ, শক্তি প্রদর্শন—সবই চলছে জোরকদমে। কিন্তু চমকের বিষয়? সেই সব কর্মসূচিতে কাজল শেখ কার্যত উধাও! এটি নিছক অনুপস্থিতি নয়, বরং স্পষ্ট বার্তা—বীরভূমের গদি নিয়ে এখন রক্ত গরম করা লড়াই!
তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় কাজল শেখের ওপর ভরসা করেছিলেন। কিন্তু কেষ্টর প্রত্যাবর্তনের পর থেকে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে শীতল লড়াই জ্বলন্ত অগ্নিগর্ভে পরিণত হয়েছে। কেষ্ট চান, পুরনো সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করতে। আর কাজল? তিনি এত সহজে ক্ষমতা ছাড়বেন না! দুই দাপুটে নেতার সংঘাতে তৃণমূল এখন এক ধ্বংসাত্মক বিভাজনের সামনে দাঁড়িয়ে।
সূত্র বলছে, কাজল শেখের অনুগামীরা প্রবল আশঙ্কায় ভুগছেন। কেষ্ট ফিরে আসার পর থেকেই তারা নিজেদের অস্তিত্ব সংকটে দেখছেন। অন্যদিকে, কেষ্ট শিবির সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলছে—বীরভূমের আসল মালিক একটাই, সে কেষ্ট মণ্ডল!তাদের দাবি, কাজল শুধুই ফাঁকা সময়ের সুযোগসন্ধানী।
এবার প্রশ্ন একটাই—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী করবেন? একদিকে কেষ্ট, যিনি তৃণমূলের পুরনো বিশ্বস্ত সেনাপতি, অন্যদিকে কাজল, যিনি বর্তমানের ক্ষমতাশালী যোদ্ধা। এই রক্তাক্ত সংঘর্ষ যদি দ্রুত না মেটে, তাহলে তৃণমূলের দুর্গে ফাটল ধরতে বাধ্য। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট বক্তব্য—এই ফাটল তীব্র হলে, বিজেপি এক থাবায় বীরভূম গিলে খাবে!
বীরভূমে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত ময়দানে কে টিকে থাকে!
