বালি নিয়ে কালো বাজারির অভিযোগ তুলে রাস্তায় নামছে পুরুলিয়া কংগ্রেস।
প্রশাসনের মদতে জেলা জুড়ে চলছে বালির কালোবাজারি। বালির দাম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনকে। এই দাবি নিয়ে আগামী ১ লা মার্চ এক ঘন্টার প্রতীকী রাস্তা অবরোধে নামছে পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেস। পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতো সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান। লাগাম ছাড়া দুর্নীতি শুরু করেছে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন। বালির ঘাট চড়া দামে লিজ দেওয়া হচ্ছে,কিন্তু প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেই বালির দাম। বালি ঘাটের লিজ প্রাপকরা নিজেদের মর্জি মতো নিচ্ছেন বালির দাম। এক ট্রাক্টর বালির দাম কোথাও চার হাজার,কোথাও আবার সাত হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।এই পরিস্থিতিতে বালির সরকারি দাম নির্ধারণের দাবি তুলে আগামী ১লা মার্চ পুরুলিয়া জেলা জুড়ে এক ঘন্টার প্রতীকী পথ অবরোধের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস। বালির দামের বিষয়টি নিয়ে পুরুলিয়া জেলা পরিষদের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ জয়মল ভট্টাচার্য বলেন। চড়া দামে বালি বিক্রি হওয়ার জন্য সমস্যায় পড়ছেন আবাস প্রাপকরা। তাদের কাছেও খবর এসেছে। খুব শীঘ্রই প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে বালির দাম নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হবে। বালির দাম যে নিয়ন্ত্রণে নেই সে কথা এক প্রকার স্বীকার করে নিয়েছেন জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়াও। তিনি জানান প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিছুদিন আগে পঞ্চায়েত মন্ত্রী জেলায় এসেছিলেন তাকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসন দেখছে। এদিকে বালির দামের জন্য কনস্ট্রাকশন করতে গিয়ে যে সমস্যা হচ্ছে সে কথা জানান সরকারি কাজের বরাত পাওয়া ঠিকাদার থেকে হার্ডওয়্যারের দোকান মালিকরাও। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ বিজেপির। পাড়া ব্লক এলাকার ঠিকাদার শেখ শোয়েব জানান। বালি ঠিক মতো পাওয়া যাচ্ছে না। বালির দাম সরকারি শিডিউলে ধরা রয়েছে ১৫০০টাকা অথচ বালি কিনতে হচ্ছে ৪০০০-৫০০০টাকা দিয়ে। এই অবস্থায় সরকারি কাজে ঠিকাদারি করে কোন লাভ হচ্ছে না। পুরুলিয়া শহরের বিজেপি নেতা জয়দীপ্ত চট্টরাজ বালি ইস্যুতে রাজ্যের তৃণমূল সরকার তথা জেলা প্রশাসনকে কটাক্ষ করে বলেন। রাজ্যের তৃণমূল সরকার কয়লা চোর, বালি চোর মাটি চোরের সরকার। এই সরকারের সময় বালির দাম ২০ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। বালির দাম নিয়ন্ত্রণ না হলে খুব শীঘ্রই বৃহত্তর আন্দোলনে করে সব স্তব্ধ করে দেওয়া হবে।
