শেখ হাসিনার পাশাপাশি ভারতকে দোষ দিতে দিতে কেটে গেল বেশ কয়েক মাস।কিন্তু ক্রমশ হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশের আসল চেহারাটা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।অশান্ত বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের খবরের পাশাপাশি গত দুমাসে একের পর এক ধর্ষণ-শ্লীলতাহানির ঘটনা সামনে এসেছে।এমন পরিস্থিতিতেই এবার ফের পথে নামল ছাত্র সমাজ ও সাধারণ মানুষ। জানা যচ্ছে সোমবার ‘ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যন্ত গণপদযাত্রা কর্মসূচি পালনের ডাক দেয়। আমজনতা ও শিক্ষার্থীদের যোগ দেওয়া এই কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকে অগ্রসর হতেই তাদের আটকে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। অন্যদিকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয় জাহাঙ্গীর আলমকে।
এই ঘটনার পাশাপাশি সোমবার ঢাকা-রাজশাহী ট্রেন চলাচল স্তব্ধ করে দেন পড়ুয়ারা।সম্প্রতি ‘বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি’-র নাম পরিবর্তন করে ‘গাজীপুর ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি’ করা হলে তা নিয়ে আপত্তি তুলেছে পড়ুয়ারা।বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ‘বাংলাদেশ ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি’ করার দাবি তুলেছে তারা।এর আগেও একই দাবিতে আন্দোলনকারীরা সরব হলেও কানে তোলা হয় নি।এবার সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের মতই পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ রাস্তায় নেমে আসায় অস্বস্তিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।
ধারাবাহিক ভাবে হয়ে চলা এমন পরিস্থিতে বাম জোটসহ বিভিন্ন সংগঠন বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দায় অন্তর্বর্তী সরকারকেই নিতে হবে। বাংলাদেশের প্রথম আলোয় প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ, নির্যাতন, খুন, রাহাজানি, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মব সন্ত্রাস জনগণের জানমালের নিরাপত্তাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।এ ক্ষেত্রে সরকার চরম দায়িত্বহীনতা ও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এসব ঘটনার দায় অন্তর্বর্তী সরকারকেই নিতে হবে। বাংলাদেশে ধর্ষণসহ দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক অবনতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতিও।
তবে শুধু সাধারণ মানুষ কেন, ক্রমেই যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের উপরে রাজনৈতিক দলগুলোরও আস্থা টাল খাচ্ছে তার প্রমাণ দ্রুত নির্বাচনের জন্য উঠে আসা একাধিক দাবি।যেমন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মনে করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের কথাবার্তায় তারা লক্ষ্য থেকে কিছুটা সরে আসছে।বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে লেখা হয়েছে রোববার ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বার আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত ৩১-দফা প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ভার্চ্যুয়ালি অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ফেরানোর আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচন হলে দেশে স্থিতি আসবে। সমস্যাগুলো সমাধান করতে দায়িত্বপ্রাপ্তরা কাজ করবেন। সংসদকে কার্যকর করতে যত দেরি হবে, অস্থিরতা চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে।
অন্যদিকে সোমবার ধামরাই বিএনপির সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন নতুন খেলা শুরু হয়েছে।তাঁর অভিযোগ, “কিছু কিছু লোক নির্বাচনকে পেছাতে চায়, তাতে ক্ষমতায় তারা বেশিদিন থাকতে পারবে। নতুন দল করতে পারবে।” আশঙ্কা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার কি জেনে শুনে দেশকে ধ্বংসের দিকে, নৈরাজ্যের দিকে, গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে কিনা! আমরা আশা করি সরকার সে পথ থেকে সরে আসবেন। এই খবর ছেপেছে বাংলাদেশের সময় নিউজ।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনও তোপ দেগেছেন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপর।প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে খন্দকার মোশাররফ হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ছাত্র–জনতা ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়ে এই সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। যেন এই সরকার জনগণের অধিকার জনগণকে ফিরিয়ে দিতে পারে। আর জনগণের সবচেয়ে বড় অধিকার ভোটের অধিকার। তাই জনগণের প্রত্যাশা, যত দ্রুত সম্ভব, এ দেশের মানুষের ভোটের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়ে একটি সংসদ নির্বাচন করা। এই সরকারের উচিত যত শিগগির সম্ভব বিদায় নেওয়া। যদি এমন হয়, এই সরকার সম্মানের সঙ্গে বিদায় নিতে পারবে। জনগণও রক্ষা পাবে, মুক্তি পাবে।”
Leave a comment
Leave a comment
