দিল্লিতে মদ কেলেঙ্কারির বিষয়ে ক্যাগের রিপোর্ট এল সামনে। মঙ্গলবার বিধানসভায় এই প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। ‘দিল্লিতে মদের নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ সংক্রান্ত পারফরম্যান্স অডিট রিপোর্ট’-এর উপর সিএজি-র অনুসন্ধান কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে পূর্ববর্তী আপ সরকারকে। কারণ প্রতিবেদনে আবগারি নীতিতে আর্থিক অনিয়ম এবং অন্যায়ের যে ধারাবাহিকতা চলছিল তা সামনে এসেছে। এখন প্রশ্ন হলো, আম আদমি পার্টিকে যেভাবে CAG কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে, তারা এবার কোন মুখে আত্মপক্ষ সমর্থন করবে?
প্রতিবেদনে প্রোটোকল লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করা হয়েছে পূর্ববর্তী সরকারকে। একই সময়ে, ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা একাংশের ‘সুবিধা’র জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া উপেক্ষা করা হয়েছিল। সিএজি-র অনুসন্ধান অনুসারে, মদ নীতি প্রণয়নের সময় লাইসেন্সিং-এর গুরুতর লঙ্ঘন ঘটেছে। ‘সরকারি রাজস্ব হ্রাসের’ কারণে পাইকারদের মার্জিনও বৃদ্ধি করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ উপেক্ষা করা এবং দরদাতাদের মদের লাইসেন্স বরাদ্দে স্বচ্ছতা বজায় না রাখার জন্য দায়ী করা হয়েছে যুব ভর্তি আপ সরকারকে।
২,০০২.৬৮ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির সম্মুখীন
লাইসেন্সিং নিয়ম লঙ্ঘন দিল্লি সরকার- দিল্লি আবগারি নিয়ম, ২০১০ এর ৩৫ নং নিয়ম বাস্তবায়িত হয়নি।
পাইকারদের মুনাফায় বিরাট বৃদ্ধি-মার্জিন ৫% থেকে বেড়ে ১২% হয়েছে।
লাইসেন্সধারীদের দুর্বল যাচাই – খুচরা লাইসেন্স দেওয়ার আগে তাদের সম্পদ, আর্থিক অবস্থা বা অপরাধমূলক রেকর্ড পরীক্ষা করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ উপেক্ষা করা- আম আদমি পার্টি (AAP) সরকার ২০২১-২২ সালের জন্য নতুন আবগারি নীতি প্রণয়নের সময় নিজস্ব বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করেছে।
স্বচ্ছতার অভাব এবং মদের কার্টেল তৈরি – আগে একজন ব্যক্তিকে মাত্র দুটি দোকান পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু নতুন নীতিতে ৫৪টি পর্যন্ত দোকান পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
একচেটিয়া ব্যবসা এবং ব্র্যান্ড প্রচার – মাত্র তিনটি পাইকার (ইন্দোসপ্রিট, মহাদেব লিকার এবং ব্রিন্ডকো) মদের সরবরাহের ৭১% নিয়ন্ত্রণ করছিল।
মন্ত্রিপরিষদ পদ্ধতি লঙ্ঘন:- মন্ত্রিসভার অনুমোদন ছাড়াই মূল ছাড় এবং ছাড় দেওয়া হয়েছিল।
আইনত মদের দোকান খোলা:- এমসিডি এবং ডিডিএর অনুমোদন ছাড়াই আবাসিক এবং মিশ্র-ব্যবহারের এলাকায় মদের দোকান খোলা হয়েছিল।
মদের দামের হেরফের:- আবগারি বিভাগ L1 লাইসেন্সধারীদের এক্স-ডিস্টিলারি মূল্য (EDP) নির্ধারণের অনুমতি দিয়েছে, যার ফলে কৃত্রিমভাবে মদের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দিল্লির আবগারি নীতির উপর CAG-এর অডিট রিপোর্টে মান নিয়ন্ত্রণ, লাইসেন্সিং, মূল্য নির্ধারণ এবং পদ্ধতিগত প্রয়োগের ব্যর্থতার একাধিক লঙ্ঘন চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ত্রুটিগুলির জন্য দায়িত্ব ও জবাবদিহি নির্ধারণ করতে হবে। এখন প্রশ্ন উঠছে, যদি এই মামলায় CAG-র সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে আম আদমি পার্টির বড় মুখগুলোর ঝামেলা অবশ্যই বাড়বে।
সিএজি রিপোর্ট প্রকাশের পর, দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মনীশ সিসোদিয়া সহ অনেক আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতার ঝামেলা আরও বাড়তে পারে। দিল্লির মদ কেলেঙ্কারি মামলায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং সিসোদিয়া সহ অনেক নেতাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। দুই নেতাই বেশ কয়েক মাস ধরে দিল্লির তিহার জেলে রয়েছেন। বর্তমানে, এই মামলাটির তদন্ত করছে সিবিআই এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

