সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
————–‘
ফের রাজ্য বিধানসভার অধিবেশন কক্ষে বিধানসভার কার্যবিবরণী তালিকার কাগজ ছিঁড়ে এবং তা ছিটিয়ে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করলেন বিজেপি বিধায়করা। চলতি অধিবেশনে এনিয়ে পরপর দুদিন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি বিজেপি বিধায়কদের। বারংবার একই ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি সদস্যদের টেবিলে বিধানসভার কার্যবিবরণী তালিকা দিতে নিষেধ করলেন বিধানসভা অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় স্কুল, হিন্দু মন্দির ও মূর্তির ওপর আক্রমণের ঘটনা নিয়ে বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, মালতি লাভা চৌধুরী সহ বিজেপির বেশ কয়েকজন বিধায়ক আজ বিধানসভায় মুলতবি প্রস্তাব আনেন। একইসঙ্গে মুলতুবি প্রস্তাবের উপর আলোচনাও চান। বিজেপি বিধায়কদের দাবি নাকচ করে দেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দোপাধ্যায়। দাবি গ্রাহ্য না হওয়ায় বিজেপি বিধায়করা অধিবেশন কক্ষের মধ্যেই শ্লোগান-সাউটিং করে তাদের প্রতিবাদ জানাতে থাকেন ও বিধানসভা ওয়াক আউট করে বেড়িয়ে যান।
বিধায়করা বেরিয়ে যাওয়ার সময় টেবিলে থাকা কাগজ পত্র ছিড়ে সদনের মধ্যে ফেলে দেওয়ায় অধ্যক্ষ্য বিধানসভার অফিসিয়ালদের নির্দেশ দেন আগামী দিন বিজেপি বিধায়কদের টেবিলে যাতে কাগজ না দেওয়া হয়।
এদিকে অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে অলিন্দে মিছিল- স্লোগান দিতে দিতে বিধানসভার প্রতীকের দিকে এগিয়ে যান বিজেপি বিধায়করা। বিধানসভার কোটিকোটে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন বিজেপি বিধায়করা। হাতে নিজেদের দাবি-দাওয়া সম্বলিত পোস্টার নিয়ে রাজ্য সরকার এবং বিধানসভার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান বিরোধী বিধায়করা। বিধানসভার পোটিকোর বিক্ষোভ অবস্থানে যোগ দেন রাজ্যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও।
উল্লেখযোগ্য আগামী ১৯ মার্চ পর্যন্ত অর্থাৎ যেদিন অধিবেশনের শেষ দিন সেই দিন পর্যন্ত রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সহ দুই বিজেপি বিধায়ক ইতিমধ্যেই বিধানসভার অধিবেশন কক্ষে সাসপেন্ডেড রয়েছেন। গতকাল এই একই ধরনের বিক্ষোভ স্লোগান চেঁচামেচি এবং বিধানসভার কাগজ ছিড়ে ফেলার কারণে দুই বিজেপি বিধায়ককে মার্শাল ডেকে বিধানসভা কক্ষের বাইরে বের করে দেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরেও বিজেপি বিধায়কদের এখানেও আচরণকে মান্যতা দেওয়ার কোন প্রশ্নই ওঠে না বলে জানিয়েছেন শাসকপক্ষ।
