ইন্দ্রানুজের অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতের হস্তক্ষেপে আইনি তদন্ত শুরু হয়, যেখানে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর নামও যুক্ত হয়। তবে TV9 বাংলা-র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত হওয়ার আগেই ব্রাত্য বসুর বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছিল।
শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ির সামনে একটি পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়, যেখানে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল— “ব্রাত্য বসু: ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল”। এই ঘটনার পরই পুলিশের তৎপরতা বাড়ে, এবং তদন্তের স্বার্থে লেকটাউন থানার পুলিশ সিপিএম নেতা পলাশ দাসকে ডেকে পাঠায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।
১ মার্চ শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সফর ঘিরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, তাঁর গাড়ির ধাক্কায় ইন্দ্রানুজ নামে এক ব্যক্তি গুরুতর জখম হন। এই ঘটনার পর ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, পরিস্থিতি ক্রমশ অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।
তৃণমূল এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিলেও, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, ইন্দ্রানুজ রাস্তায় পড়ে আছেন আহত অবস্থায়। মুহূর্তের মধ্যে সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। জানা যায়, তাঁর মাথা ও চোখে চোট লেগেছে।
ঘটনার দিন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ওয়েবকুপার বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। তবে শিক্ষার্থীদের একাংশ ছাত্র সংসদের নির্বাচন পুনরায় চালুর দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করলে ক্যাম্পাসে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
তীব্র উত্তেজনার মধ্যে শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে সক্ষম হন তিন নম্বর গেট দিয়ে। তবে বের হওয়ার মুহূর্তেই তাঁকে ঘিরে ফেলেন আন্দোলনকারীরা। অভিযোগ, বাম ছাত্র সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রীর কনভয়কে ঘিরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। অভিযোগ উঠেছে, কনভয়ের দিকে ইট-পাথর ছোড়া হয় এবং বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষের সময় ব্রাত্য বসুও আঘাত পান।
অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের পাল্টা অভিযোগ, শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি এক ছাত্রকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তাঁকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একইসঙ্গে, ব্রাত্য বসুও অসুস্থ অনুভব করলে তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।
রাতের দিকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরও অশান্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, তৃণমূল সমর্থিত সংগঠন “শিক্ষাবন্ধু”-র কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, আহত ছাত্রকে দেখতে হাসপাতালে গেলে কয়েকজন প্রতিবাদী ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পোশাক ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এখন প্রশ্ন, এই ঘটনার তদন্ত কোন দিক নিচ্ছে? রাজনৈতিক মহলে এই নিয়ে তীব্র চর্চা চলছে।
