বাংলাদেশের মাটিতে ফের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ফের জারি হল গ্রেফতারি পরোয়ানা। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটি।তবে এই ঘটনা সাম্প্রতিক নয়। ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরসহ সারা দেশে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের হত্যা-নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে। সেই সেই মামলায় রায়ে বুধবার মুজিবকন্যার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এরই পাশাপাশি আরও বিপাকে পড়েছেন শেখ হাসিনা। একদিন আগেই বাংলাদেশে তাঁর সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এরই সঙ্গে তাঁর গোটা পরিবার অর্থাৎ ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সাইমা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানার নামে থাকা সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করতে নির্দেশ দিয়েছে ঢাকার মেট্রোপলিটন আদালত। টানা প্রায় দেড় দশক ধরে যিনি বাংলাদেশে সরকার প্রধান ছিলেন, যাঁর বাবা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, সেই শেখ হাসিনার আর প্রায় কোনও স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তিই আর বাংলাদেশে থাকল না। এমনকী হাসিনার বোন শেখ রেহানা ও তাঁর দুই সন্তান টিউলিপ সিদ্দিকী ও মুজিব সিদ্দিকীর নামে থাকা সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
গত বছরের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরই দেশ ছাড়েন হাসিনা। মুজিব কন্যা ও তাঁর পরিবারের সমস্ত সম্পত্তি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছিল বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন। সেই কমিশনের দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার নির্দেশ দেয় আদালত। এরই সঙ্গে হাসিনার গোটা পরিবারের ১২৪টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ক্রোক করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, হাসিনার ধানমণ্ডির বাড়ি ও সুধাসদনও বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে আদালতের নির্দেশে। সব মিলিয়ে প্রায় ৮ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী শাপলা চত্বরের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালে মামলায় যে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তাঁরা হলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, পুলিশের প্রাক্তন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার ও প্রাক্তন আইজিপি বেনজীর আহমেদ।
তবে গ্রেফতারি পরোয়ানা এটাই প্রথম নয়, এর আগেও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ, হাসিনার আমলে বেশ কয়েক জনকে গুম এবং বিচার ছাড়াই হত্যা করা হয়েছিল। সোমবার এই গুম এবং খুনের ঘটনায় হাসিনা-সহ ১২ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মহম্মদ তাজুল ইসলাম। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লীগ নেত্রী হাসিনা ছাড়াও তাঁর প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত উপদেষ্টা, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকি, বাংলাদেশ পুলিশের প্রাক্তন আইজি বেনজির আহমেদের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে।
কোটা সংস্কার আন্দোলন পর্বে ‘গণহত্যা এবং মানবতা-বিরোধী অপরাধ’-এর অভিযোগে দায়ের হওয়া দু’টি মামলায় গত অক্টোবর মাসেই হাসিনা-সহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। প্রসঙ্গত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারের উদ্দেশ্যে ২০১০ সালে হাসিনার আমলেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অনেকের বিচার হয়েছে এই ট্রাইব্যুনালে।এ বার সেই ট্রাইব্যুনালই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করছে হাসিনার বিরুদ্ধে।
কাজেই বাংলাদেশের মাটিতে ক্রমেই বিপদ বড়াছে শেখ হাসিনার।একদিকে যখন বাংলাদেশ দেশজুড়ে হিংসা, ধর্ষণ, লাগামছাড়া হয়ে পড়েছে তখনও কেয়ারটেকার সরকার মুজিব ও হাসিনার সমস্ত স্মৃতি মুছে ফেলতে তৎপর হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। আর একের পর এক গ্রেফতারি পরোয়ানার পাশাপাশি এবার হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়ে যাওয়ায় তাঁর অস্তিত্বহীনতার বন্দোবস্ত পাকা করা হল।
Leave a comment
Leave a comment
