এক ভারতীয় গবেষকের ছাত্রভিসা বাতিল করেছে মার্কিন অভিবাসন বিভাগ, কারণ হিসেবে উঠেছে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনের অভিযোগ।
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থী রঞ্জনি শ্রীনিবাসন স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। সিবিপি হোম অ্যাপের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর প্রস্থানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত হয়েছে।
এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণরত শ্রীনিবাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, তিনি ফিলিস্তিনপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে সমর্থন করেছেন এবং কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ৫ মার্চ রঞ্জনি শ্রীনিবাসনের ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়, যার পর ১১ মার্চ তিনি যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজে তাঁর দেশত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সহিংস কার্যকলাপে যুক্ত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম এই প্রসঙ্গে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও শিক্ষা গ্রহণ কোনো মৌলিক অধিকার নয়, এটি একটি বিশেষ সুবিধা।”
তিনি আরও জানান, যারা সন্ত্রাসবাদ বা সহিংস কার্যকলাপকে সমর্থন করে, তাদের এই দেশে থাকার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।
এদিকে, বিদেশি শিক্ষার্থীদের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণে আরও কঠোর হতে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন প্রশাসন শিক্ষার্থীদের অনলাইন কার্যক্রম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে, যাতে তাদের কার্যকলাপ ঘনিষ্ঠভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়।
গত বছর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক হামলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক প্রতিবাদ দেখা যায়। কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়, যেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। ইহুদি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ ওঠার পর প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি অনুদান প্রত্যাহারের বিষয়টি বর্তমানে আলোচনার মধ্যে রয়েছে।
এদিকে, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কার্যকলাপে সম্পৃক্ত শিক্ষার্থীদের ওপর কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে মার্কিন অভিবাসন বিভাগ। এরই অংশ হিসেবে লিকা কোরদিয়া নামের এক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। সূত্র জানায়, তাঁর ভিসা ২০২২ সালে বাতিল হলেও তিনি নিয়ম লঙ্ঘন করে এখনো যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন।
Leave a comment
Leave a comment
