স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া মানেই যে ভবিষ্যতে ডিমেনশিয়া বা অ্যালঝাইমার্স হবে, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। তবে, সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য—চোখের মাধ্যমে আগেই জানা সম্ভব, একজন ব্যক্তি ভবিষ্যতে স্মৃতিনাশের শিকার হবেন কি না!
ইংল্যান্ডের বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ কিছু চক্ষু পরীক্ষার মাধ্যমে ডিমেনশিয়ার পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব। ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় ৮,৬২৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের উপর পরীক্ষা চালানো হয়। তাঁদের প্রত্যেককে একটি সাধারণ চক্ষু পরীক্ষার আওতায় আনা হয়, যেখানে ত্রিভুজাকৃতির কাঠামোর মধ্যে বিভিন্ন রঙের বিন্দু শনাক্ত করতে বলা হয়।
গবেষণায় উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—যাঁরা এই বিন্দুগুলো আলাদা করে শনাক্ত করতে পারেননি, তাঁদের মধ্যে ৫৩৭ জন পরবর্তী সময়ে ডিমেনশিয়া বা অ্যালঝাইমার্সে আক্রান্ত হন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মস্তিষ্কের কোষের ক্ষয় এক দিনে হয় না, বরং দীর্ঘ সময় ধরে এটি ঘটে। এই পরিবর্তন চোখের নড়াচড়া, পলক ফেলার ধরন এবং রঙ বোঝার ক্ষমতার মাধ্যমে ধরা পড়তে পারে।
গবেষকদের মতে, ডিমেনশিয়ার ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে এক ধরনের টক্সিন জমা হয়, যা স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে পরিবর্তন আনে। এই পরিবর্তন প্রভাব ফেলে চোখের গতিবিধিতেও। ফলে, ভবিষ্যতে স্মৃতিনাশের ঝুঁকি নির্ধারণ করতে চক্ষু পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
এই গবেষণা যদি আরও উন্নত করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে ডিমেনশিয়া শনাক্তকরণ সহজ হবে এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। বিজ্ঞানীদের আশা, এই পদ্ধতির মাধ্যমে স্মৃতিনাশের মতো রোগের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।
