চলচ্চিত্র পরিচালক বিদুলা ভট্টাচার্য সম্প্রতি ফেডারেশনের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে একটি রিট মামলা দায়ের করেছেন। বিদুলার অভিযোগ, ফেডারেশন তার পরিচালনার কাজ বন্ধ করার চেষ্টা করছে এবং তার পেশাগত জীবনে অযথা হস্তক্ষেপ করছে। বিদুলার এই পদক্ষেপ চলচ্চিত্র জগতে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বিদুলা ভট্টাচার্য বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলা চলচ্চিত্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। তার পরিচালিত বেশ কিছু ছবি বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছে এবং সমালোচকদের প্রশংসাও কুড়িয়েছে। তবে সম্প্রতি তিনি একটি নতুন ছবির কাজ শুরু করেছিলেন, যা ফেডারেশনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়ে যায় বলে তার অভিযোগ। বিদুলা জানিয়েছেন, ফেডারেশন তার ছবির শুটিং বন্ধ করার নির্দেশ দেয় এবং সেটে উপস্থিত কলাকুশলীদের কাজ বন্ধ করতে বলে।
পরিচালক বিদুলা বলেন, “আমি পেশাদারভাবে আমার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ ফেডারেশনের তরফ থেকে নির্দেশ আসে যে শুটিং বন্ধ করতে হবে। আমার টিমের সদস্যরা দ্বিধায় পড়ে যায় এবং কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। এটি সম্পূর্ণ অন্যায় এবং আমার পেশাগত স্বাধীনতার ওপর আঘাত।”
বিদুলার অভিযোগ অনুযায়ী, ফেডারেশন শুটিংয়ের অনুমতির বিষয়ে অনৈতিকভাবে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি আরও বলেন, “চলচ্চিত্র পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি আমার সৃজনশীল কাজ চালিয়ে যেতে চাই। কিন্তু ফেডারেশনের এই হস্তক্ষেপ আমার কাজের পরিবেশ নষ্ট করছে।”
বিদুলার পক্ষে তার আইনজীবী জানান, “ফেডারেশনের এই ধরনের আচরণ পরিচালকদের কাজের স্বাধীনতা খর্ব করছে। বিদুলা একটি সুস্পষ্ট আইনি লড়াইয়ের পথে এগিয়েছেন, যাতে এই ধরনের অনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা যায়।”
ফেডারেশনের পক্ষ থেকে অবশ্য বিদুলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, “আমরা পরিচালকের কোনো কাজ বন্ধ করিনি। শুটিং সংক্রান্ত কিছু নিয়ম মানতে বলা হয়েছিল মাত্র। এতে পরিচালকের কাজ বন্ধ করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।”
ফেডারেশনের এক মুখপাত্র বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য ছিল কাজের পরিবেশ ঠিক রাখা এবং সমস্ত কলাকুশলীর স্বার্থ রক্ষা করা। তবে বিদুলা যে অভিযোগ তুলেছেন তা ভিত্তিহীন। আদালতে এই বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করা হবে।”
চলচ্চিত্র মহলে বিদুলার এই পদক্ষেপ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই পরিচালকের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। তারা মনে করছেন, পরিচালকের সৃজনশীল স্বাধীনতা রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ জরুরি ছিল। আবার অনেকে ফেডারেশনের অবস্থানকে সমর্থন করছেন। তাদের মতে, ফেডারেশনের কিছু নিয়ম ও নীতিমালা মানা পরিচালকদের দায়িত্ব।
একজন সিনিয়র চলচ্চিত্র পরিচালক বলেন, “বিদুলা তার সৃজনশীল কাজ চালিয়ে যেতে চাইছেন, যা একেবারেই স্বাভাবিক। তবে ফেডারেশনও যদি কাজের পরিবেশ ঠিক রাখতে কিছু নিয়ম মানার কথা বলে, সেটাও মানা উচিত। তবে আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবে তা সকলের মানা উচিত।”
বিদুলার এই মামলা এখন হাইকোর্টে বিচারাধীন। আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। চলচ্চিত্র মহল এবং সাধারণ দর্শকের নজর এখন এই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। এই মামলার রায় পরিচালকদের স্বাধীনতা এবং ফেডারেশনের ভূমিকার ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিদুলা ভট্টাচার্যের আইনজীবী জানান, “আমরা আদালতের কাছে অনুরোধ জানাবো, যাতে পরিচালকদের স্বাধীনতা রক্ষা করা হয় এবং ফেডারেশন তাদের নিয়মের সীমা অতিক্রম না করে।” ফেডারেশনের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে, তারা আদালতের রায়কে সম্মান জানাবে।
চলচ্চিত্র জগতে পরিচালকদের স্বাধীনতা এবং ফেডারেশনের ভূমিকা নিয়ে এই বিতর্ক নতুন নয়। তবে বিদুলার এই পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মামলার রায় পরিচালকদের কাজের পরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন। এখন দেখার বিষয়, আদালত এই মামলায় কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং তা বাংলা চলচ্চিত্র জগতে কী প্রভাব ফেলে।

