পরিতোষ সাহা: বীরভূম
কোর কমিটির বৈঠক নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল আগেই।স্থির হয়েছিল দিনক্ষণ। কিন্তু সেই বৈঠকে গরহাজির থাকলেন বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি ও কোর কমিটির চেয়ারম্যান অনুব্রত মণ্ডল।অনুপস্থিত থাকলেন অনুব্রত স্নেহধন্য ও কোর কমিটির আর এক সদস্য সুদীপ্ত ঘোষ।যা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল ফের প্রকাশ্যে চলে এল।
অনুব্রত মণ্ডল সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতারের পর ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বোলপুরের রাঙাবিতানে গড়ে দিয়েছিলেন কোর কমিটি।সেই কোর কমিটির সদস্য করা হয় অনুব্রত বিরোধী কাজল শেখকে।সে সময় তিহার জেলে বসে এক জেলা নেতার কাছে এই কথা শুনে চুপ করে গিয়েছিলেন অনুব্রত।সেই কোর কমিটির নেতৃত্বে ২০২৩ পঞ্চায়েত নির্বাচন ও ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে ভালো ফল করায় দলনেত্রী কোর কমিটি ভাঙেননি।বরং কাজল শেখকে জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদে বসান।২০২৪ পুজোর আগে অনুব্রত জামিনে জেলায় ফিরলেও,দলনেত্রী তাঁকে জেলার সভাপতির পদ ফিরিয়ে দিলেও কোর কমিটি ভাঙেননি।বরং,কোর কমিটির সাথে আলোচনা করেই জেলা চালাবার নির্দেশ দেন।আর সেখানেই থমকে গেল অনুব্রত-র রাশ।কিন্তু দলনেত্রীর নির্দেশ।তা অমান্য করা যায় না।ফলে,বোলপুর ও রামপুরহাটে দুটি কোর কমিটির বৈঠক হলেও,অজ্ঞাত কারণে জানুয়ারী মাসে সিউড়িতে কোর কমিটির বৈঠক ডাকার কথা থাকলেও তা হয়নি।তা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক।কোর কমিটির বৈঠক না ডেকে ২২ মার্চ জেলা কমিটির বৈঠক ডাকে অনুব্রত মণ্ডল।তা নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক।‘হুঙ্কার’ ছাড়ে কাজল শেখ।তিনি দলনেত্রী ও আভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানাবেন বলে জানান।
দীর্ঘ টালবাহানার পর,কাজলের হুমকির জেরে জেলা কমিটির বৈঠক বাদ দিয়ে একই দিনেই ডাকা হয় কোর কমিটির বৈঠক। রাজ্য বিধানসভায়, বিধানসভার উপাধক্ষ্য আশিস ব্যানার্জির ঘরে, মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা,লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিনহা ও সিউড়ি বিধায়ক ও কোর কমিটির আহ্বায়ক বিকাশ রায় চৌধুরী আলোচনা করে। সিদ্ধান্ত হয় শনিবার বোলপুরে কোর কমিটির বৈঠক ডাকা হবে।সেইমত বৈঠক ডাকা হলেও গরহাজির থাকলেন অনুব্রত মণ্ডল।সাথে সুদীপ্ত ঘোষ।যা নিয়ে অনুব্রত-কাজলের দ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে এল।
কোর কমিটির বৈঠকে না গিয়ে অনুব্রত মণ্ডল বৈঠক শুরুর ঠিক আগে সিউড়ি হয়ে মহম্মদবাজার বিডিও অফিসে আছেন বলে তৃণমূল সূত্রে খবর।যদিও কোর কমিটির আহ্বায়ক বিকাশ রায় চৌধুরী বলেন,“ ডেউচা-পাঁচামী নিয়ে মিটিং থাকায় তিনি মহম্মদবাজারে গেছেন।” অন্যদিকে অনুব্রত মণ্ডলের গরহাজির নিয়ে কাজল শেখ বলেন,“ কেন অনুব্রত মণ্ডল মিটিং-এ থাকেননি বলতে পারবো না।তবে আহ্বায়ক মিটিং ডেকেছেন,আমি এসেছি।বলা হচ্ছে ডেউচা-পাঁচামীতে মিটিং আছে,সেখানে গেছে।কিন্তু সেই মিটিং কোলকাতায় হচ্ছে।”
তৃণমূল সূত্রে খবর,যেহেতু অনুব্রত মণ্ডল জেলা কমিটির বৈঠক ডেকেও কাজলের হুঙ্কারের জেরে শেষ মুহুর্তে জেলা কমিটির বৈঠক ভেস্তে দিয়ে একই দিনে কোর কমিটির বৈঠক ডাকা হল,তা নিয়েই শুরু হয়েছে কোন্দল।তার জেরেই অনুব্রত মণ্ডল বৈঠকে গরহাজির থেকে মহম্মদবাজার বিডিও অফিসে আছেন।তবে প্রশ্ন,অনুব্রত কি বুঝতে পারছেন,বীরভূমের রাজনৈতিক মাটিতে তাঁর ক্ষমতা কমছে।বাড়ছে কাজলের ক্ষমতা? তাই কি দূরত্ব বজায় রাখছে অনুব্রত? প্রশ্ন অনেক,উত্তর সময়ের অপেক্ষায়।
