হাওড়ার বেলগাছিয়া ডাম্পিং গ্রাউন্ডে আবার মাটিধসের ঘটনা ঘটেছে, যার জেরে প্রবল দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা। গত তিন দিন ধরে টানা মাটি বসে যাওয়ার ফলে বিভিন্ন এলাকায় ফাটল দেখা দিয়েছে রাস্তায়, এমনকি কিছু অংশ সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। রাস্তার বড় বড় খণ্ড ভেঙে গিয়ে চলাচলে মারাত্মক সমস্যা তৈরি হয়েছে। আতঙ্কিত বাসিন্দারা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জলসঙ্কটের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন সংকটে পড়েছেন হাওড়ার বাসিন্দারা। ধসের ভয় ক্রমশ গ্রাস করছে এলাকা, দিন কাটছে আতঙ্কে। প্রতিদিনই পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে, আর এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই বাসিন্দাদের মনে একটাই প্রশ্ন—কীভাবে রক্ষা পাবেন তাঁরা?
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে লাগাতার আবর্জনা ফেলার কারণে এলাকায় ময়লার স্তূপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ভারী যানবাহনের লাগাতার যাতায়াতের ফলে মাটির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, যদি পরিস্থিতি এভাবেই চলতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে বিপদ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাদের মতে, ক্রমাগত ধস নামার ফলে বসবাসের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বড়সড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহুবার ধস নামলেও এখনও পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের দীর্ঘদিনের উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা এদিন রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে সামিল হন। তাঁরা আবর্জনা বহনকারী গাড়ির পথ আটকে বিক্ষোভ দেখান এবং অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো দাবি তোলেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি আশ্বাস দেন যে হাওড়া পুরসভা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং সমস্যার সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ করা হবে। মন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালে যখন পুরসভার নিয়ন্ত্রণ বিরোধী দলের হাতে ছিল, তখন এই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তিনি নিজে উদ্যোগ নিয়ে সেই কাজ বন্ধ করেন।
এক স্থানীয় বাসিন্দার আশঙ্কার সুর, “পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে। প্রতিদিন মাটির ধস আরও গভীর হচ্ছে, রাস্তায় ফাটল বড় হচ্ছে। বাড়ির দেওয়ালে চিড় ধরেছে, কাঠামো নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। জানি না, সামনে আরও কত বড় বিপদ অপেক্ষা করছে!”
শিবপুর, সালকিয়া এবং মধ্য হাওড়ার কিছু অংশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলেও বেলগাছিয়ার অবস্থা এখনও অত্যন্ত সংকটজনক। ক্রমাগত ধসের ফলে এলাকার স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে, আর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিপদের মাত্রা আরও বাড়ছে। আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত প্রশাসনের কার্যকরী পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
