শহরের নারকেলডাঙা মেনরোড সংলগ্ন জালাময়দান এলাকায় শনিবার সকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এলাকায় একটি পাঁচতলা বহুতলের গ্রাউন্ড ফ্লোরে থাকা কাজের গোডাউনে আগুন লাগে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সকাল প্রায় ৬টা নাগাদ গোডাউন থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, এবং এলাকায় ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। দ্রুত খবর পৌঁছায় দমকলে, এবং অল্প সময়ের মধ্যেই দমকলের ৯টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘন জনবসতি ও ঘিঞ্জি এলাকার কারণে দমকলের কাজ করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। তবে দমকল কর্মীদের পাশাপাশি ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের কর্মীরাও দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে বহুতলের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে আনেন। ফলে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, যা একপ্রকার স্বস্তির বিষয়।
গোডাউনে প্রচুর পরিমাণ কাগজের বাক্স ও বিভিন্ন ধরনের দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল বলে জানা গেছে। এর ফলেই আগুন দ্রুত বড় আকার ধারণ করে এবং গোটা এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে পুরো এলাকা ঠান্ডা করতে আরও দীর্ঘ সময় ধরে জল দেওয়ার কাজ চালানো হয়।
এদিনের অগ্নিকাণ্ডে গোডাউনের সমস্ত সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও বড় কোনও ক্ষতি এড়ানো গেছে। তবে বন্ধ গোডাউনে কিভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দমকলের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার পরই ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হবে। প্রাথমিক অনুমানে শর্ট সার্কিট বা গাফিলতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদি কোনও ধরনের অবহেলা পাওয়া যায়, তবে গোডাউনের মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এধরনের অগ্নিকাণ্ডে বড়সড় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। তাই এমন এলাকাগুলিতে অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থার আরও উন্নতি করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
