পরিতোষ সাহা:বীরভূম
টেন্ডারের দুর্নীতি নিয়ে সরব হওয়ার জেরে এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মিথ্যা মামলার অভিযোগ উঠল রূপপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও তৃণমূল নেতা বাবু দাসের বিরুদ্ধে।অভিযোগ করেছে একই গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যা বিষ্ণুপ্রিয়া মণ্ডল।যা ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
রূপপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি কাজের টেণ্ডার বের হয়।সেই টেণ্ডারে অংশগ্রহণ জয়নাল আবেদিন মণ্ডল নামে এক ঠিকাদার।কিন্তু ঠিকাদার জানতে পারে সে টেণ্ডারে অংশগ্রহণ করেনি।তারই পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে দ্বারস্থ হয় জয়নাল।আদালতের নির্দেশে কাজ বন্ধ করে দিলে ক্ষিপ্ত হন রূপপুর পঞ্চায়েতের প্রধান ও এলাকার তৃণমূল নেতা বাবু দাস।অভিযোগ,এই গ্রাম পঞ্চায়েতের এক তৃণমূল সদস্যাকে দিয়ে শান্তিনিকেতন থানায় জয়নালের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ আনে।আর যা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।যিনি শ্লীলতাহানীর অভিযোগ করেছেন,তিনি জানেন না, শান্তিনিকেতন থানায় এই রকম এক ঘটনা ঘটেছে।জানতে পেরে সেই তৃণমূল সদস্যা রূপপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যা ও তৃণমূল নেতা বাবু দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে।
রূপপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যা বিষ্ণুপ্রিয়া মণ্ডল অভিযোগ করেন, “একদিন হঠাৎ করে পঞ্চায়েতে ডেকে পাঠালে, পঞ্চায়েত প্রধান ও বাবু দাস একটি কাগজে সহি করতে বলেন।সেই কাগজ অফিসের নথি মনে করে আমি না পড়েই সহি করে দিই।পরে জানতে পারি,ঠিকাদার জয়নাল আবেদীন মণ্ডল আমাকে শ্লীলতাহানী করেছে বলে আমি অভিযোগ করেছি।যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।এটা পঞ্চায়েত প্রধান ও স্থানীয় তৃণমূল নেতা বাবু দাস আমাকে ফাঁসিয়েছে।এ রকম কোন ঘটনায় ঘটেনি।” আর এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন ঠিকাদার জয়নাল আবেদীন মণ্ডল।তিনি বলেন,“টেণ্ডারের দুর্নীতি নিয়ে আমি আদালতে গেলে,তারা আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়।আমাকে বাবু দাস মেরে ফেলার হুমকি দেয়।তাতেও কাজ না হওয়ায়,আমার বিরুদ্ধে শান্তিনিকেতন থানায় শ্লীলতাহানীর মিথ্যা অভিযোগ আনে।”
যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে রূপপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এলিনা খাতুন।তিনি বলেন,“যিনি বলছেন,তিনি মিথ্যা বলছেন।প্রাণনাশের হুমকির ভয়ে তিনি এই কথা বলছেন।তৃণমূল সদস্যায় আমাদের বলে যে জয়নাল হুমকি দিচ্ছে।তারজন্যই আমরা প্রশাসনের কাছে যেতে বলি।এর বেশি আমি কিছু করিনি।”
হেনস্থা থেকে বাঁচতে ইতিমধ্যেই ওই ঠিকাদার পুলিসের দ্বারস্থ হয়েছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে শান্তিনিকেতন থানার পুলিস।
তৃণমূল নেতা বাবু দাস বলেন,“বাইরে আছি, কোনও মন্তব্য করব না বলে ফোন কেটে দেন।”
