মাত্র কদিন আগেই জাস্টিন ট্রুডোর ছেড়ে যাওয়া আসনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন মার্ক কার্নি। ট্রুডোর উত্তরসূরি হিসাবে কানাডার লিবারাল পার্টি তাঁকে বেছে নিয়েছিল। এবার মসনদে বসেই নতুন সরকার গড়তে মাত্র ন’দিনের মাথায় সরকার ভেঙে দিলেন সেই কার্নিই। পাশাপাশি অবিলম্বে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন কানাডার গভর্নর জেনারেলের কাছে।প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেছেন, তিনি একটি শক্তিশালী ম্যান্ডেট নিশ্চিত করতে নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন।
কিন্তু কেন এমনটা করলেন কার্নি? রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন এর পেছনে মার্ক কার্নির দেশ ও দল দুই ভাবনাই কাজ করছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে, জাস্টিন ট্রুডো দলীয় এবং বিরোধী দলের চাপে পদত্যাগ করেন। ১৪ মার্চ মার্ক কার্নি এবং নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেন। কানাডায় হিসেব মত এই বছরের অক্টোবরেই নির্বাচন করতে হবে।এক দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা লিবারেল পার্টি জাস্টিন ট্রুডোর নেতৃত্বে কিছুটা অজনপ্রিয় হয়ে পড়লেও ট্রাম্প বিরোধীতার জেরে কিছুটা হলেও পালে সমর্থনের হাওয়া লাগছে কার্নিদের দলে। এই মুহূর্তে কনজারভেটিভদের থোতা মুখ ভোতা করতে ট্রাম্পের হুমকির কারণে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া দেশপ্রেমের ঢেউকেই কাজে লাগাতে চান কার্নি। তাই সময়ের একটু আগেই জনতার দরবারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেছেন, “আমি গভর্নর জেনারেলকে সংসদ ভেঙে দিয়ে ২৮ এপ্রিল নির্বাচনের অনুরোধ করেছি। তিনি এতে সম্মত হয়েছেন।” গভর্নর জেনারেল হলেন কানাডায় ব্রিটিশ কমনওয়েলথের রাজা চার্লস তৃতীয়র প্রতিনিধি। হঠাৎ এই ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প “আমাদের ভেঙে দিতে চান, যাতে আমেরিকা আমাদের মালিকানা নিতে পারে। আমরা (কানাডা) তা হতে দেব না।” তিনি বলেছেন, এই হুমকি গুরুতর এবং সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দেশকে একটি শক্তিশালী ম্যান্ডেট দেওয়া প্রয়োজন।
কেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ জুজু দেখছে কানাডা?
ক্ষমতায় এসেই পাশের দেশ কানাডার উপর বিপুল শুল্ক চাপিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর চাপানো ভারী শুল্ক কানাডার অর্থনীতির জন্য খুবই ক্ষতিকর হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।তবে এখানেই শেষ নয় পাশের দেশ কানাডাকে দখল করে নিতে চান ট্রাম্প। ট্রাম্প কানাডাকে “৫১তম স্টেট” এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোকে “গভর্নর” বলে অভিহিত করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট বলেছেন, “আমি জানি না সেখানে কে জিতবে,” তিনি তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন। অর্থাৎ কানাডার দখল নিতে অটল বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এমন একটা পরিস্থিতির মুখে দাড়িয়ে দেশপ্রেমের হাওয়া তুলে মার্ক কার্নির জানিয়েছেন কানাডাকে সুরক্ষিত করে তোলার জন্য অনেক কাজ বাকি আছে। কানাডাকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। ট্রাম্পের অনৈতিক শুল্ক হুঁশিয়ারির মুখে কানাডায় যে সঙ্কট নেমে এসেছে, তার মোকাবিলা করতে হবে। সেই কারণেই সরাসরি জনতার রায় চেয়েছেন তিনি। যে রায় এবছরের শেষে গিয়ে নিতেই হত তা নিতে হবে আর মাত্র পাঁচ সপ্তাহ পরে।
কী ভাবে নির্বাচন হবে কানাডায়?
২৮ এপ্রিল, কানাডিয়ানরা হাউস অফ কমন্সের ৩৪৩ সদস্য নির্বাচিত করবেন, যা ২০২১ সালের তুলনায় পাঁচটি বেশি। কানাডায় প্রথম-পাস্ট-দ্য-পোস্ট পদ্ধতিতে আসন জয় নির্ধারিত হয়। একটি নির্বাচনী ডিস্ট্রিক্টে একাধিক দল প্রার্থী দাঁড় করাতে পারে। যে প্রার্থী সর্বোচ্চ ভোট পাবেন, এমনকি যদি তিনি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নাও পান তিনিই জয়ী হবেন।কোনও দল যদি ১৭২টি আসন জয় করে, তবে তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠন করবে। যদি কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তবে সাধারণত সর্বাধিক আসন পাওয়া দলকেই সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়, যার জন্য হাউসের সমর্থন প্রয়োজন।
কানাডায় ২০১৫ সাল থেকে লিবারাল পার্টি ক্ষমতায় রয়েছে। নানা রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে কনজারভেটিভেরা তাদের থেকে কিছুটা এগিয়ে গিয়েছিলেন। তবে এবার দেশপ্রেমের হাওয়া তুলে মার্ক কার্নি পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে সমর্থনের ফসল ঘরে তুলতে পারেন কী না সেটাই দেখার।
