আমেরিকার আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত কমিশন বা ইউএসসিআইআরএফ তাদের বার্ষিক রিপোর্টে ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং’ (র)-কে নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছে।ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে ভারতে সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্য বেড়ে চলেছে। যদিও এই রিপোর্টের কড়া সমালোচনা করেছে দিল্লি।প্রকাশ্যে তার নিন্দা করেছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। ভারত আমেরিকার ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)-এর কঠোর ভাষায় জবাব দিয়ে বলেছে, এই সংস্থাটিই আন্তর্জাতিকভাবে “উদ্বেগের সংস্থা” (এনটিটি অফ কনসার্ন) হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার যোগ্য।
ইউএসসিআইআরএফের ২০২৫ সালের বার্ষিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে ভারতে সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্য বেড়ে চলেছে। রিপোর্টে ভারতের বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা র’ (রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং)-এর বিরুদ্ধে বিদেশে খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী ও চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে “হত্যার ষড়যন্ত্রে” জড়িত থাকার অভিযোগ এনে নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি রিপোর্টে ভারতকে “কান্ট্রি অফ পার্টিকুলার কনসার্ন” বা বিশেষ উদ্বেগের দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ক্ষমতাসীন বিজেপিকে মুসলিম ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে “বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানো”র অভিযোগ করা হয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, “ওই রিপোর্টে পক্ষপাতমূলক এবং রাজনৈতিক ভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মূল্যায়ন করার ধারা জারি রয়েছে।” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত কমিশন কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে ভুল ভাবে উপস্থাপিত করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ নয়াদিল্লির।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, “ইউএসসিআইআরএফ-এর এই রিপোর্টে ভারতের গতিশীল বহুসংস্কৃতিবাদী সমাজ সম্পর্কে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার সত্যিকারের উদ্বেগ নয়, বরং একটি পক্ষপাতদুষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা।” মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, “ভারত সব ধর্মের ১৪৪ কোটি মানুষের দেশ। কিন্তু ইউএসসিআইআরএফ কখনোই ভারতের এই বহুত্ববাদী কাঠামো বা এখানকার সম্প্রীতিপূর্ণ সহাবস্থানের স্বীকৃতি দেয় না।”
ভারত সরাসরি ইউএসসিআইআরএফ-কেই “এনটিটি অফ কনসার্ন” বা উদ্বেগের সংস্থা বলে উল্লেখ করেছে।দিল্লির দাবি ইউএসসিআইআরএফ-কেই বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের সংস্থা হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত। ভারতের বার্তা গণতন্ত্র ও সহিষ্ণুতার মডেল হিসেবে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করার এমন প্রচেষ্টা সফল হবে না।
তবে আমেরিকার আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত কমিশন যে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করেছে, তা আমেরিকা সরকারের পক্ষে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম। কারণ এই কমিশনের সুপারিশ ওয়াশিংটনের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। ভারতের এই জবাব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক স্তরে তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বা গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ মেনে নেবে না দিল্লি। ইউএসসিআইআরএফ-এর সমালোচনাকে “অবাস্তব ও পক্ষপাতদুষ্ট” আখ্যা দিয়ে ভারত বলেছে, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের ধর্মীয় সম্প্রীতির মডেল নিয়ে প্রশ্ন তোলাটাই অগ্রহণযোগ্য।
Leave a comment
Leave a comment
