পরিতোষ সাহা : বীরভূম
সরকারী অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে পাথর উত্তোলনের জেরে, পাথর উত্তোলনকারী একটি সংস্থাকে মোট ৯৬ কোটি ৩৩ লক্ষ ৪৮ হাজার ৭৩০ টাকা সরকারী সুদ সহ জমা দিতে হবে।এই চিঠি পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই টাকা সরকারী খাতে জমা দিতে হবে।
মুরারই ১ ব্লকের বড়ুয়া গোপালপুর মৌজার প্রায় ৪০ প্লটে সরকারী অনুমতি ছাড়াই একটি বেসরকারী সংস্থা দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনি ভাবে কালো পাথর উত্তোলন করছে।যার ফলে কোটি কোটি টাকা সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা করছে সংস্থাটি।এটি নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে বীরভূম জেলা প্রশাসন।
গত ১১ বছর ধরে জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশে জেলায় লিজপ্রাপ্ত খনি ছাড়া পাথর খাদান থেকে পাথর তোলা নিষিদ্ধ। সব জেনেও প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখে এই সংস্থাটি লাগাতার ভাবে পাথর উত্তোলন করছিল বলে অভিযোগ।এই অভিযোগ পেয়ে জেলা ভূমি সংস্কারের সমীক্ষক দল এলাকায় গিয়ে পাথর খাদানটি মাপ করেন।সেই সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ৪০ প্লট থেকে প্রায় ১৭ কোটি ১৮ লক্ষ ৭ হাজার ৯৮৯ ঘনফুট কালো পাথর খনন করা হয়েছে।যা বিভিন্ন উন্নতমানের যন্ত্রাংশ নিয়ে দিনেদুপুরে এই পাথর খাদান থেকে পাথর চুরি করে আসছে।সেই পাথর বিভিন্ন জায়গায় বিক্রিও করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনা প্রশাসনের গোচরে আসতেই নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসন।২০ মার্চ জেলাশাসক, এই বেসরকারী কোম্পানিটিকে একটি নোটিশ দিয়েছে।যার মেম নম্বর(Memo No.M&M/1388,/DL&LRO(B)/2025, Date:20/03/2025)। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে,কোম্পানিকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে যে পরিমান পাথর বিক্রি করা হয়েছে তা বেআইনি।তার জন্য ৯৫ কোটি ৯ লক্ষ ৫৭ হাজার ২৩৬ টাকা জমা দিতে হবে।একইসঙ্গে বকেয়া হিসেবে কোম্পানিকে আরও ১ কোটি ২৩ লক্ষ ৯১ হাজার ৪৯৬ টাকা দিতে হবে।মোট ৯৬ কোটি ৩৩ লক্ষ ৪৮ হাজার ৭৩০ টাকা দিতে হবে,সুদ সহ।
জেলাশাসক বিধান রায় বলেন,“সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে যে পাথর উত্তোলন করেছে এই কোম্পানি।তার জন্য কোম্পানির বিরুদ্ধে মোটা টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।এই জরিমানা দিতে না পারলে কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।” স্টোন কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে,“এই ধরনের কোন জরিমানা নোটিশ তারা পাননি।”
তবে প্রশ্ন,দীর্ঘদিন ধরে দিনেদুপুরে একটি কোম্পানি টন টন পাথর বিক্রি করে দিল।এতদিন পরে ঘুম ভাঙলো প্রশাসনের?স্থানীয় সূত্রে খবর,এই কোম্পানির লোকজন শাসকদলের কাছের লোক হিসেবে এলাকায় পরিচিত।জেলার এক শাসকদলের প্রভাবশালী নেতার সাথে এই কোম্পানির কর্তাদের ওঠাবসা।তার জেরেই এতদিন প্রশাসনের ঘুম ভাঙেনি।কিন্তু ব্যাপারটি প্রকাশ্যে আসার পর,নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।তাই এই পদক্ষেপ বলে মনে করেন এলাকার বাসিন্দারা।
