সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লন্ডন সফরে আজ গুরুত্বপূর্ণ দিন।
বৃহস্পতিবার অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে কেলগ কলেজের কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার ঘুরি মা তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি এবং নিজের রাজনৈতিক লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস নিয়ে বক্তৃতা দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর মমতা বক্তৃতা শুনতে ইতোমধ্যেই লন্ডন জুড়ে উৎসাহ তুঙ্গে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। কোনও প্রবেশ মূল্য না থাকলেও অক্সফোর্ডের রেজিস্টার্ড আইডি থেকে নাম নথিভুক্ত করাতে হবে। আর নাম নথিভুক্ত করতে এমন হিড়িক পড়েছে লন্ডনবাসীর। বুধবারের মধ্যেই নথিভুক্তিকরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ কলেজের প্রেক্ষাগৃহে আর জায়গা নেই। এই পিক থাকলে দর্শক আসনে থাকবেন বাংলার মহারাজ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই লন্ডনে পৌঁছে গিয়েছেন সৌরভ। সঙ্গে থাকবেন সৌরভের স্ত্রী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ও। যিনি বেশ কিছুদিন ধরে লন্ডনেই আছেন। বুধবারে টেনসের তীরে মুখ্যমন্ত্রীর হাঁটার সঙ্গী ছিলেন ডোনা। লন্ডন থেকে সড়ক পথে মমতা রওনা দেবেন অক্সফোর্ডে।
লন্ডনের স্থানীয় সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রীর অক্সফোর্ডে পৌঁছনোর কথা। মূল অনুষ্ঠান যে স্মারক বক্তৃতা তা হবে বিকেলে কেলগ কলেজে কলেজের প্রেক্ষাগৃহে। মধ্যবর্তী সময়ে অক্সফোর্ডের গ্রন্থাগার সহ বিভিন্ন অংশে মমতাকে ঘুরিয়ে দেখাবেন কর্তৃপক্ষ। অক্সফোর্ডের বিভিন্ন মাইলফলক দেখাশোনার পর সরাসরি কেলক কলেজের প্রেক্ষাগৃহে ঢুকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
অক্সফোর্ডের কেলগ কলেজে এক ঘন্টার অনুষ্ঠানে সামাজিক উন্নয়ন ও মহিলা ক্ষমতায়ন সহ একাধিক বিষয়ে বক্তৃতা দেবেন মমতা। বক্তৃতা শেষে আলাপচারিতা হবে কেলগ কলেজে। বৃহস্পতিবার অক্সফোর্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি একান্ত বৈঠকও হওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। অক্সফোর্ডের কর্মসূচি সেরে বৃহস্পতিবার রাতেই লন্ডনে ফিরবেন মমতা। পরদিন অর্থাৎ লন্ডনের স্থানীয় সময়ে শুক্রবার কলকাতায় ফেরার উড়ান ধরবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন অক্সফোর্ডের কেলগ কলেজের প্রসিডেন্ট তথা অধ্যাপক জোনাথন মিচি। যিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়েরও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর। আর মমতা নিজেও কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন নিয়ে এই লন্ডন সফর করছেন।
অন্যদিকে, মমতার অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচি নিয়ে প্রথম থেকেই জলঘোলা করার চেষ্টা করার অভিযোগ করেছেন মমতা নিজেই। অভিযোগ, চিঠি দিয়ে মেল করে মমতাকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানো কেন উচিত নয় তার বিস্তারিত জানানো হয়েছে রাজনৈতিক প্লাটফর্ম সহ একাধিক ফোরামের পক্ষ থেকে। উল্লেখযোগ্য, চিঠি বা মেলগুলিতে নির্দিষ্টভাবে প্রেরকের নাম উল্লেখ নেই। ইংল্যান্ডে আরজি করের প্রাক্তনীদের সংগঠনের পক্ষ থেকেও চিঠি দিয়ে মমতার এই সফরের বিরোধিতা করা হয়েছে। যদিও যে নামে আরজিক ও প্রাক্তনীদের চিঠি বলে উল্লেখ করা হয়েছে সেই ধরনের আরজিক ও প্রাকৃতভাবে কোন সংগঠন ইংল্যান্ডে নেই বলে পাল্টা দাবিও করা হয়েছে অক্সফোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে। এই আবহাওয়া অক্সফোর্ডের বক্তৃতা দেওয়ার সময় আর জি কর বিতর্ক যে অবশ্যম্ভাবী হতে পারে তা বিলক্ষণ বুঝেছেন মমতা নিজেও। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, আরজিকর সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য প্রমাণ তাঁর কাছে আছে এবং তিনি যুক্তি দিয়ে সেগুলো মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত।
