মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আছেন নিজের মেজাজেই।এবার বিদেশ থেকে আমেরিকায় আমদানি করা সমস্ত গাড়ির উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দিলেন তিনি।আগামী ২ এপ্রিল থেকেই তা কার্যকর হতে চলেছে। ৩ এপ্রিল থেকে এই শুল্ক সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই ট্রাম্পের মুখে আমদানিকৃত গাড়ির উপর শুল্ক চাপানোর কথা শোনা গিয়েছিল। এক মাস পরে, তাঁর সেই ভাবনাই কার্যকর করতে চলেছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, নতুন শুল্কনীতির ফলে আমেরিকার উৎপাদন গতি পাবে। পাশাপাশি, বছরে রাজকোষে ঢুকবে অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা।
গাড়ির উপর শুল্ক চাপানোয় আমেরিকায় কী প্রভাব?
মার্কিন দেশে মোট বিক্রি হওয়া গাড়ির মাত্র ৫০ শতাংশ তৈরি হয় সেই দেশে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুসারে এর ফলে বাড়বে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, এই করের ফলে বছরে আনুমানিক ১০০ বিলিয়ন ডলার আয় বৃদ্ধি হবে।অর্থাৎ বছরে রাজকোষে ঢুকবে অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি ডলার,যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা। ইতিমধ্যে আমেরিকার গাড়ি উৎপাদনকারী সংস্থাদের এক সূত্র জানিয়েছে গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানিকারীদের ট্রাম্পের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে গাড়ি উৎপাদনের খরচ বাড়বে এবং বিক্রি কমবে। দ্য সেন্টার ফর অটোমোটিভ রিসার্চ জানিয়েছে যে এই নতুন ধার্য করা করের ফলে গাড়ির দাম অনেকাংশেই বৃদ্ধি পাবে।
কী প্রভাব পড়বে গোটা বিশ্বের গাড়ি বাজারে?
এই নতুন কর আরোপের ফলে ট্রাম্পের দেশের সঙ্গে অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক লড়াই আরও জটিল হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।পরোক্ষে এই শুল্কের বোঝা চেপে আমেরিকায় গাড়ির গড় মূল্য সাড়ে ১২ হাজার ডলারের কাছাকাছি হবে।নয়া ট্রাম্প-নীতিতে বিপদে পড়তে পারে ভারতের টাটা মোটরস কিংবা রয়্যাল এনফিল্ড-এর প্রস্তুতকারক আইশার মতো বিভিন্ন সংস্থা।২০২৪ অর্থবর্ষে ভারত প্রায় ২১.২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের গাড়ির যন্ত্রাংশ রফতানি করেছে যার অনেকটাই রফতানি হয়েছে ইউরোপ এবং আমেরিকায়।ভারতীয় সংস্থাগুলি ইউরোপ, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চিনে গাড়ির যন্ত্রাংশ রফতানি করে থাকে, যেখান থেকেই সরাসরি আমেরিকায় গাড়ি সরবরাহ করা হয়।
ট্রাম্পের এই নীতিতে অসন্তুষ্ট কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।তিনি জানিয়েছেন এই নতুন শুল্ক ঘোষণার ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন গাড়ি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকেরা। জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারা খোলা মনে আলোচনায় বসতে চান।ইউরোপীয় ইউনিয়নের উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন এই নীতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন এর ফলে ব্যবসার পাশাপাশি সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্থ হবে।এই নীতির ফলে আমেরিকার সঙ্গে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ক্যানাডা, মেক্সিকো, জার্মানি-সহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
