সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
রাজ্যের ২১ জেলায় ১২ লক্ষ বাড়ির মধ্যে প্রায় এক লক্ষেরও বেশি বাড়ি নির্মাণের কাজ এখনও শুরুই হয়নি। গত ডিসেম্বর মাসে প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার পর মাত্র ৩ লক্ষ বাইশ হাজার ৮৭২টি বাড়ির নির্মাণকাজ ভিত থেকে ঘরের বিম পর্যন্ত শেষ হয়েছে। ৪৬ হাজার উপভোক্তা টাকা পাওয়ার পরেও তিন মাসে বাড়ি নির্মাণের জন্য ইট, বালি, সিমেন্ট পর্যন্ত সংগ্রহ করতে পারেননি। ৫০ হাজারের বেশি উপভোক্তা নির্মাণ সামগ্রী সংগ্রহ করলেও কাজ শুরু করতে পারেননি।
নবান্নে রাজ্য পঞ্চায়েত দফতরের রিপোর্ট পেশের পর এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। আর এই রিপোর্ট অস্বস্তি বাড়িয়েছে রাজ্য প্রশাসনের। ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের প্রথম কিস্তি অর্থাৎ, তিন মাসের টাকা গত ডিসেম্বরে পাওয়ার পরও প্রকল্পের কাজ কেন গতিহারা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নবান্নের শীর্ষ মহলেও। সুত্রের খবর, রাজ্যের ছয় জেলায় গৃহনির্মাণের গড়িমসি সবথেকে বেশি। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন নবান্ন। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ দিনাজপুর, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর এই ৬ জেলায় বাংলার বাড়ির কাজের গতি অত্যন্ত কম।
এটিকে কেন্দ্রীয় সরকারের শর্ত অনুযায়ী বাংলার বাড়ি কালকের জন্য দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করতে হবে উপভোক্তাদের। নাহলে পরবর্তী কিস্তির টাকা তাদের দেওয়া যাবে না। আর সার্বিকভাবে যদি বাংলার বাড়ি প্রকল্পে কেন্দ্রীয় অনুদান পেতে হয় তাহলে কেন্দ্রের উপযুক্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই বাংলার বাড়ি প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার পর কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের কাজে ঢিলেমি বা দীর্ঘসূত্রিতা কেন হচ্ছে তা জানতে চাইছে প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা। এক্ষেত্রে নোডাল দফতর হিসেবে রাজ্য পঞ্চায়েত দফতরকে আরও সক্রিয় হওয়ার বার্তা দেওয়ার সঙ্গেই ঢিমেতালে চলা ছয় জেলা প্রশাসনকে সতর্ক করেছে নবান্ন। উপভোক্তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাতে দ্রুত কাজ শুরু করার উৎসাহ দেওয়া হয় তা নিয়ে জেলাশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন।
