রাজ্যসভার প্রশ্নোত্তর পর্বের মধ্যেই সংসদে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর আগমনে বিজেপি ও এনডিএ-র সাংসদরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন, ‘মোদী, মোদী’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা কক্ষ। প্রধানমন্ত্রী সেখানে প্রায় আধ ঘণ্টার বেশি সময় উপস্থিত থাকলেও, কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি। বিরোধীদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি।
বিশেষ করে, যে প্রশ্ন সরাসরি তাঁর দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত, সেগুলোর উত্তর দেওয়ার বদলে প্রতিমন্ত্রী জবাব দেন। মোদীর এই নীরব উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। তিনি এলেন, স্বাগত উপভোগ করলেন, কিন্তু কোনও মন্তব্য না করেই চলে গেলেন—এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদের ভেতরে-বাইরে শুরু হয়েছে জল্পনা, যা বিরোধীদের সমালোচনার অস্ত্র হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী যখন সভাকক্ষে ছিলেন, তখন ২৮৯ নম্বর প্রশ্নটি ওঠে, যা ছিল ভারতের পারমাণবিক নীতি সংক্রান্ত। সাংসদ ব্রিজ লাল এই প্রশ্নটি উত্থাপন করেন এবং সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছেই উত্তর প্রত্যাশিত ছিল, কারণ তিনিই পারমাণবিক বিভাগের প্রধান দায়িত্বে রয়েছেন। কিন্তু মোদী কোনও প্রতিক্রিয়া দিলেন না। তাঁর পরিবর্তে, প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং উত্তর দেন। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী এখনও পর্যন্ত সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সরাসরি কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি।
এদিকে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়, যখন তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ তাঁর দিকেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন। তিনি জানতে চান, বর্তমান সরকারের আমলে কেন এপিক প্রকল্প নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না এবং বারবার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বল্প সময়ের উপস্থিতি এবং নীরবতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে বিতর্ক। কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির সাংসদরা এই বিষয়ে তীব্র সমালোচনা করেন এবং সংসদে সরব হন। তীব্র বিক্ষোভের জেরে রাজ্যসভার অধিবেশন সাময়িকভাবে মুলতবি ঘোষণা করতে হয়।
বিরোধীদের অভিযোগ, মোদী শুধু সমর্থকদের উচ্ছ্বাস উপভোগ করতেই এসেছিলেন, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর উত্তর না দিয়েই চলে গিয়েছেন। সংসদে উপস্থিত থাকলেও কোনও প্রশ্নের জবাব দেননি, যা বিরোধীদের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। এই ঘটনাকে সামনে রেখে বিরোধী শিবির সরকারকে চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছে। মোদীর নীরবতাই এখন আলোচনার মূল বিষয়, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
