বাংলাদেশ সরকার খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারত থেকে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই প্রক্রিয়ায় সায় দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, ভারত চাল রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে। মোট পরিমাণ ৫০ হাজার টন।
বাংলাদেশ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারতের মেসার্স বাগাদিয়া ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড থেকে নন-বাসমতি সেদ্ধ চাল আমদানি করতে চলেছে। যদিও দেশটিতে ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক উঠেছে, বাস্তব পরিস্থিতিতে এই চালই খাদ্য সংকট সামলানোর মূল ভরসা হয়ে উঠছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই আমদানির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
চাল আমদানির এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ খাদ্য চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে, পাশাপাশি ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্যও এটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ এই চাল সংগ্রহে ব্যয় করবে ২ কোটি ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫৯ কোটি ১০ লাখ ৯৭ হাজার টাকার সমান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আমদানি শুধু খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করবে না, বরং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কও আরও দৃঢ় করবে। পূর্বের তুলনায় কম দামে চাল কেনায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে সুবিধা পাবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৪২৪.৭৭ মার্কিন ডলার, যা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় তুলনামূলক কম।
বাংলাদেশ এর আগে পাকিস্তানের ট্রেডিং কর্পোরেশন থেকে সমপরিমাণ চাল সংগ্রহ করেছিল, যেখানে প্রতি মেট্রিক টনের দাম পড়েছিল ৪৯৯ মার্কিন ডলার। তুলনায়, এবার ভারত থেকে চাল আমদানির ফলে প্রতি টনে ব্যয় কমে আসছে, যা বাংলাদেশের জন্য বড় অর্থনৈতিক সুবিধা এনে দেবে। এটি দেশের খাদ্য মজুত বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি ব্যয়ের চাপও কমাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শুধু খাদ্য নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কও আরও দৃঢ় করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু খাদ্য নিরাপত্তাই নয়, বরং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ককেও আরও সুদৃঢ় করবে। তবে ভারতীয় পণ্য বর্জনের দাবির বিপরীতে এই আমদানি কতটা সমর্থন পাবে, তা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে।
