একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। ল্যানসেট জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রায় ১ কোটি নতুন এইচআইভি সংক্রমণ এবং ৩০ লাখ মৃত্যু ঘটতে পারে যদি এই রোগ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়। গবেষণায় এই আশঙ্কাজনক তথ্য সামনে আসার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা নতুন করে পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে।
গবেষণায় জানানো হয়েছে যে, বিশ্বব্যাপী এইচআইভি সংক্রমণের হার গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। বরং অনেক দেশে সংক্রমণের হার বেড়েই চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে যৌন সুরক্ষার অভাব, সচেতনতার অভাব এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রধান কারণ।
ল্যানসেট রিপোর্ট অনুযায়ী, অপরিকল্পিত জীবনযাপন এবং সুরক্ষা ছাড়া যৌনসম্পর্ক সংক্রমণের হার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। অনেক দেশে এখনও এইচআইভি পরীক্ষা এবং চিকিৎসার পরিকাঠামো যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। ফলে সংক্রমণের হার দ্রুত বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এইচআইভি প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, বিনামূল্যে কনডম বিতরণ এবং এইচআইভি পরীক্ষার পরিধি বাড়ানো জরুরি। এছাড়া, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রি-এক্সপোজার প্রফিল্যাক্সিস (PrEP) ওষুধ সরবরাহ করতে হবে।
ল্যানসেট রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ১ কোটি মানুষ নতুন করে এইচআইভিতে আক্রান্ত হতে পারেন। এর মধ্যে বেশিরভাগ সংক্রমণ ঘটবে আফ্রিকা এবং এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলিতে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং জাতিসংঘ ইতিমধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, এইচআইভি সংক্রমণ রোধে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিনামূল্যে পরীক্ষা ও চিকিৎসার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যৌন শিক্ষার প্রসার, বিনামূল্যে কনডম বিতরণ এবং এইচআইভি পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। এছাড়া, মাদক ব্যবহারের প্রবণতা রোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো দরকার।
ল্যানসেট রিপোর্টে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যৌন শিক্ষার প্রসার, বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা ইতিমধ্যেই এইচআইভি প্রতিরোধে নতুন কৌশল গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। তবে এই প্রচেষ্টা সফল করতে সরকারের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
