পরিতোষ সাহা:বীরভূম
শহীদ মঞ্চে কেষ্টর আসন ফাঁকাই রইল।কাজলের আমন্ত্রণে সাড়া দিলেন না অনুব্রত মণ্ডল।চার বার একই মঞ্চে কেষ্ট-কাজলের আমন্ত্রণ থাকা স্বত্তেও,দেখা মিলল না একসাথে।সাড়া দিলেন না তৃণমূল কোর কমিটির আহ্বায়ক বিকাশ রায় চৌধুরী থেকে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাও।ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে বীরভূম তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় ফাটল প্রকাশ্যে চলে এল।
প্রতি বছরের মতো এ বারও নানুরের পাপুড়ি গ্রামে পালিত হল তৃণমূলের ‘শহিদ দিবস’।সেই মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কোর কমিটির প্রতিটি সদস্যকে।কিন্তু বিধি বাম।কমিটির সাত সদস্যের মধ্যে শুধু মাত্র বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া, বাকিদের দেখা মিলল না ‘শহিদ’ মঞ্চে। যে মঞ্চে রাজ্যের দুই মন্ত্রী মলয় ঘটক ও শ্রীকান্ত মাহাতো উপস্থিত থাকলেও,অনুপস্থিত থাকলেন কোর কমিটির সদস্য ও রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা।আর তাতেই দেখা গেল বীরভূম তৃণমূলের অন্দরের বাস্তব চিত্র।
প্রসঙ্গত,২০০০ সালের ২৮ মার্চ দুষ্কৃতিদের হাতে খুন হন কাজলের দাদা,শেখ বদিউজ্জামান ওরফে সাজু।সেই দিনটিকে পরবর্তী কালে নানুরের পাপুড়িতে তৃণমূল ‘শহিদ দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।শুরুর দিকে সেই সভায় দেখা মিলত জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল সহ বাকিদের।কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে অনুব্রত-র অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।যা বেড়েছে তিহার থেকে অনুব্রত জেলায় ফেরার পর।
বারবার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অনুব্রত মণ্ডলকে কাজল শেখের সাথে মিলেমিশে কাজ করার কথা বললেও তা বাস্তব চিত্র দেখা যাচ্ছে না।ফলে বিধানসভা নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে অনুব্রত-কাজলের দ্বন্দ্ব বারেবারে প্রকাশ্যে আসছে।ম মঞ্চে অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতি নিয়ে কাজল শেখ বলেন,“আমি কোর কমিটর বৈঠকে, কোর কমিটির আহ্বায়ক বিকাশ রায় চৌধুরীর মাধ্যমে সমস্ত কোর কমিটির সদস্যদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম।এছাড়াও ব্যক্তিগত ভাবে উপস্থিত সমস্ত সদস্যদের আমন্ত্রণ জানিয়ে এসেছিলাম।অনুব্রত মণ্ডল উপস্থিত না থাকায়,সেটা বিকাশদা কে বলেছিলাম।কিন্তু কেন এলেন না জানি না।”
তবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের অন্দরে অনুব্রত- কাজলের দ্বন্দ্ব যে ভাবে বারেবারে প্রকাশ্যে আসছে,তাতে বিরোধীদের অনেকটাই জায়গা করে দিচ্ছে বলে মনে করে নীচু তলার তৃণমূল কর্মীরা।
