নারকেল জল স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে পরিচিত। এতে প্রচুর ইলেক্ট্রোলাইট, ভিটামিন এবং মিনারেল রয়েছে, যা শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। গরমের দিনে ডিহাইড্রেশন দূর করতে এটি অত্যন্ত কার্যকর। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে নারকেল জল পান করলে তা স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় এটি উপকারী হলেও অতিরিক্ত গ্রহণে শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।
নারকেল জলে উচ্চমাত্রায় পটাসিয়াম থাকে। অতিরিক্ত পটাসিয়াম গ্রহণ করলে রক্তে পটাসিয়ামের মাত্রা বেড়ে হাইপারকালেমিয়া দেখা দিতে পারে। এই অবস্থায় হৃদস্পন্দনের অনিয়ম, দুর্বলতা এবং বমিভাব দেখা দিতে পারে। নারকেল জল স্বাভাবিকভাবে রক্তচাপ কমাতে সহায়ক। তবে যাদের রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কম, তাদের ক্ষেত্রে এটি আরও কমে যেতে পারে। ফলে মাথা ঘোরা, বমিভাব এবং দুর্বলতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
নারকেল জল কম ক্যালোরির পানীয় হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে পান করলে ক্যালোরির মাত্রা বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত পান করলে ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে। যাঁরা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাঁদের জন্য এটি সমস্যা তৈরি করতে পারে। নারকেল জলে প্রাকৃতিক চিনি থাকে। অতিরিক্ত পরিমাণে পান করলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিপজ্জনক। বিশেষ করে যারা ইনসুলিন বা ডায়াবেটিসের ওষুধ সেবন করেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
নারকেল জল প্রাকৃতিক ল্যাক্সেটিভ হিসেবে কাজ করে। অতিরিক্ত পরিমাণে পান করলে এটি পেট ফাঁপা, গ্যাস এবং ডায়রিয়ার কারণ হতে পারে। যাদের হজমে সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এটি আরও বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে নারকেল জল পান করার ফলে অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের নারকেলজাত পণ্য বা বাদামজাত পণ্যের প্রতি সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের মধ্যে চুলকানি, ফুলে যাওয়া এবং বমিভাব দেখা দিতে পারে।
নারকেল জলে উচ্চমাত্রায় পটাসিয়াম থাকে, যা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কিডনি যদি ঠিকমতো কাজ না করে, তবে অতিরিক্ত পটাসিয়াম শরীর থেকে ঠিকমতো নির্গত হতে পারে না। এর ফলে হাইপারকালেমিয়া এবং হৃদস্পন্দনের অনিয়ম দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত নারকেল জল পান করলে শরীরে ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে যারা অতিরিক্ত ঘামান বা শরীরচর্চা করেন, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নারকেল জল পান করলে সোডিয়াম এবং পটাসিয়ামের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ মিলিলিটার নারকেল জল পান করা নিরাপদ। যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন বা খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত, তারা দিনে এক থেকে দুইবার নারকেল জল পান করতে পারেন। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে পান করা থেকে বিরত থাকা উচিত। ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা বা রক্তচাপ সংক্রান্ত সমস্যা থাকলে নারকেল জল পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
