২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে একাধিক নতুন নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে ব্যাংকিং পরিষেবা, UPI লেনদেন, আয়কর এবং অন্যান্য আর্থিক ক্ষেত্রের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। এই পরিবর্তনগুলি সম্পর্কে আগে থেকে জানা থাকলে সাধারণ মানুষ সহজেই নিজেদের আর্থিক পরিকল্পনা সাজাতে পারবেন এবং যেকোনো অসুবিধা এড়াতে পারবেন। আসুন জেনে নিই কোন কোন নিয়মে পরিবর্তন আসছে।
প্রথমত, UPI লেনদেনের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। বর্তমানে UPI লেনদেন বিনামূল্যে হয়ে থাকে। তবে নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট পরিমাণ লেনদেনের পর অতিরিক্ত চার্জ বসানো হতে পারে। ছোট লেনদেনের ক্ষেত্রে সাধারণত কোনো অতিরিক্ত চার্জ বসানো হবে না। তবে বড় অঙ্কের বা বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে এই চার্জ কার্যকর হতে পারে। এই সিদ্ধান্ত গ্রাহকদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা তৈরি করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, আয়কর সংক্রান্ত নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে করদাতাদের জন্য নতুন স্ল্যাব চালু করা হতে পারে। মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত শ্রেণির মানুষের করের বোঝা কমানোর জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কর রেয়াত, হোম লোনের উপর কর ছাড় এবং স্বাস্থ্য বিমার ক্ষেত্রে কর সুবিধা সংক্রান্ত নীতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে। কর ব্যবস্থার সরলীকরণ এবং সাধারণ মানুষের উপর করের বোঝা কমানোই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য।
তৃতীয়ত, ব্যাংক পরিষেবার নিয়মেও বড় পরিবর্তন আসছে। বেশ কিছু ব্যাংকে সর্বনিম্ন ব্যালেন্স রাখার নিয়মে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। যদি গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে নির্ধারিত পরিমাণ ব্যালেন্স না থাকে, তাহলে অতিরিক্ত চার্জ বসানো হতে পারে। এটিএম থেকে টাকা তোলার সীমা এবং অনলাইন লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করা হচ্ছে। গ্রাহকদের নিরাপত্তার জন্য টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।
চতুর্থত, প্যান কার্ডের সঙ্গে আধার সংযোগ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য প্যান কার্ড এবং আধার সংযোগের নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যদি কোনো গ্রাহকের প্যান এবং আধার সংযুক্ত না থাকে, তবে তার প্যান কার্ড অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে ব্যাংকিং পরিষেবা, কর জমা এবং আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে অসুবিধার মুখে পড়তে হতে পারে।
পঞ্চমত, গৃহঋণ এবং ব্যক্তিগত ঋণের সুদের হার পরিবর্তন হতে চলেছে। রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) সুদের হার বাড়ালে গৃহঋণ এবং ব্যক্তিগত ঋণের কিস্তি (EMI) বাড়তে পারে। ফলে ঋণগ্রহীতাদের মাসিক খরচ বেড়ে যেতে পারে। এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের মাসিক বাজেটে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
ষষ্ঠত, বিমা সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন আসছে। জীবনবিমা এবং স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করা হচ্ছে। বিমার প্রিমিয়ামের উপর কর ছাড় এবং বিমার শর্তাবলীতে কিছু সংশোধন আনা হতে পারে। বিমার ক্লেইম প্রক্রিয়াকে সহজ এবং দ্রুত করার জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করা হতে পারে। গ্রাহকদের সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য এই পরিবর্তনগুলি আনা হচ্ছে।
সপ্তমত, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের নিয়মেও পরিবর্তন আসছে। নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চার্জ বসানো হতে পারে। বিলম্বিত পেমেন্টের ক্ষেত্রে জরিমানার হারও বাড়ানো হতে পারে। যেসব গ্রাহক মাসিক ন্যূনতম পরিমাণ পেমেন্ট করতে ব্যর্থ হবেন, তাদের উপর অতিরিক্ত সুদ ধার্য করা হতে পারে। ফলে গ্রাহকদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে আরও সতর্ক হতে হবে।
অষ্টমত, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত করার জন্য টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন, ওটিপি ভেরিফিকেশন এবং বায়োমেট্রিক অথেন্টিকেশন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ফলে অনলাইন প্রতারণা এবং সাইবার হামলার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।
নবমত, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন করনীতি চালু করা হচ্ছে। ক্ষুদ্র এবং মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যবসার লেনদেন এবং বার্ষিক আয় নির্ভর করে করছাড় এবং অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে অনলাইন ব্যবসা এবং স্টার্টআপগুলিকে উৎসাহিত করতে করছাড়ের সুযোগ দেওয়া হবে। ব্যবসার বিকাশ এবং নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই পরিবর্তনগুলি সাধারণ মানুষের আর্থিক জীবন এবং দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। ব্যাংকিং পরিষেবা, আয়কর, UPI লেনদেন, বিমা এবং ঋণ সংক্রান্ত নীতির পরিবর্তনের কারণে মানুষের খরচ এবং সঞ্চয়ের পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে। এই পরিবর্তনগুলি সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত থাকলে ভবিষ্যতের জন্য আর্থিক প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে। পরিকল্পিত আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানো সম্ভব হবে।
