উত্তরপ্রদেশের মীরাটে ঈদের নামাজ রাস্তায় পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। জনসমাগম এবং ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের কর্তারা। সম্প্রতি স্থানীয় পুলিশ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের এক বৈঠকের পর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, ঈদের নামাজ শুধুমাত্র মসজিদ এবং ঈদগাহের নির্ধারিত স্থানে পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে যে ঈদের সময় রাস্তায় নামাজ পড়ার কারণে যানজট এবং জনসমাগমের সমস্যা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে রাস্তায় অতিরিক্ত ভিড় এবং যানজটের কারণে জরুরি পরিষেবা যেমন অ্যাম্বুলেন্স এবং দমকল বাহিনীর চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এই ধরনের সমস্যা এড়াতেই রাস্তায় নামাজ পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
মীরাটের পুলিশ সুপার জানান, প্রশাসন চায় শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের নামাজ সম্পন্ন হোক। কিন্তু অতীতে রাস্তায় নামাজ পড়ার কারণে জনসমাগম এবং যানজটের ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তাই এ বছর মসজিদ এবং ঈদগাহের নির্ধারিত স্থানে নামাজ পড়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, কেউ যদি এই নির্দেশ অমান্য করে রাস্তায় নামাজ পড়ে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য ঈদের দিন অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হবে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে গোটা এলাকার নজরদারি চালানো হবে। মীরাটের গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং রাস্তার সংযোগস্থলে পুলিশি টহল বাড়ানো হবে। পুলিশ এবং প্রশাসনের বিশেষ টিম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রস্তুত থাকবে। যে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একাংশ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, রাস্তায় নামাজ পড়ার কারণে যানজট এবং জনসমাগমের সমস্যা তৈরি হয়। তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। তাই প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন তারা। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “মসজিদ এবং ঈদগাহে নামাজ পড়া হলে যানজট কমবে এবং জনসাধারণের চলাচলে কোনও সমস্যা হবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।”
অন্যদিকে, মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, রাস্তায় ঈদের নামাজ পড়া দীর্ঘদিনের প্রথা এবং এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার। রাস্তায় নামাজ পড়া বন্ধ করার মাধ্যমে প্রশাসন মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক ধর্মীয় নেতা বলেন, “রাস্তায় ঈদের নামাজ আমাদের ধর্মীয় ঐতিহ্যের অংশ। প্রশাসনের উচিত মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনা করে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা।”
মীরাটের এক ইমাম বলেন, “আমরা চাই শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের নামাজ সম্পন্ন হোক। প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাচ্ছি। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করাও জরুরি। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে এই সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করব।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পাশাপাশি মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতির দিকেও নজর দেওয়া হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় ইমাম এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। ঈদের দিন যেন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের তরফ থেকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঈদের দিন মীরাট শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হবে। সন্দেহভাজন কোনও কার্যকলাপ দেখলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষকেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, তারা যেন কোনও রকম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি না করে এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলে।
মীরাট প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এক পক্ষ মনে করছে, এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং যানজট নিরসনের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। অন্য পক্ষ এই সিদ্ধান্তকে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপ বলে দাবি করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার জন্য নয়, বরং জনস্বার্থ এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নেওয়া হয়েছে।
উপসংহারে বলা যায়, মীরাটে ঈদের নামাজ রাস্তায় পড়ার নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলেও প্রশাসন জনস্বার্থ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে শহরের যানজট এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার এবং ঐতিহ্যের বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের নামাজ সম্পন্ন করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে।

