কদিন আগেই জানা গিয়েছিল যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টায় বড় অগ্রগতি হয়েছে। কৃষ্ণসাগর নিরাপত্তা চুক্তিতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। হামলা বন্ধে রাজি হয়েছে দুপক্ষ। তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যখন ঐকমত্যে পৌঁছোনোর চেষ্টা চলছে তখনই প্রায় ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার তিনি ইউক্রেনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রশাসনের বদলে একটি অস্থায়ী প্রশাসনকে দেশ শাসন ও নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। এই সরকারের আওতায় নতুন নির্বাচন এবং এই ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ অবসানের জন্য প্রয়োজনীয় চুক্তি সাক্ষর সম্ভব হবে বলে তিনি মত দেন।এছাড়াও, তিনি আলোচনার টেবিলে রাশিয়ার আধিপত্য বজায় রাখতে যেকোনো মূল্যে ইউক্রেনীয় সেনাদের ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’ করতে তার সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন।অর্থাৎ যুদ্ধক্ষেত্র হোক বা কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্র উভয় ক্ষেত্রেই প্রাধান্য বজায় রাখতে চাইছে রাশিয়া।
রাশিয়া যুদ্ধের শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদান এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরার সিদ্ধান্তই এই যুদ্ধ শুরুর কারণ।ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই আলোচনাগুলোকে সহায়তা করছে। ইউক্রেন আশঙ্কা করছে যে, মস্কোর অনুকূলে একটি শান্তি চুক্তি তাদের মানতে বাধ্য করা হতে পারে। ট্রাম্প ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে বলেছেন যে জেলেনস্কির হাতে ‘কোনো কার্ড নেই’।
পুতিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশগুলোর এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের তত্ত্বাবধানে ইউক্রেনে একটি নতুন প্রশাসন প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ও এগোনোর কথা বলেছেন। তাঁর দাবি এতে একটি গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে একটি যোগ্য সরকার ক্ষমতায় আসবে, মানুষের আস্থা অর্জন করবে এবং তারপর শান্তি চুক্তির জন্য আলোচনা শুরু করবে।
অর্থাৎ নির্বাচন না করে ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার জন্য ট্রাম্পের মতই পুতিন পরোক্ষভাবে জেলেনস্কিকে একনায়ক বলে অভিযুক্ত করেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই পুতিন দাবি করে আসছেন, ইউক্রেনের বর্তমান জেলেনস্কি প্রশাসনের বৈধতা নেই এবং তিনি তাদের সঙ্গে আলোচনা বা দরকষাকষি করতে আগ্রহী নন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে তিনি এখনো দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
অথচ সৌদিতে একে–অপরের জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা না চালানোর পাশাপাশি কৃষ্ণসাগরে দুই দেশের নৌযানে হামলা বন্ধে রাজি হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। মঙ্গলবারই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এ দুই বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় মস্কো ও কিয়েভ। পাশাপাশি মঙ্গলবার রাশিয়া জানিয়েছে, কৃষ্ণসাগরে একটি নৌ-নিরাপত্তা চুক্তিতে সম্মত হওয়ার বিনিময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার খাদ্য, সার ও শিপিং কোম্পানিগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সহায়তা করতে রাজি হয়েছে। অন্যদিকে আমেরিকা জানিয়েছে যে, রাশিয়া ও ইউক্রেন একমত হয়ে একে অপরের শক্তি ক্ষেত্রগুলোতে সামরিক হামলা নিষিদ্ধ করতে সম্মত হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে পুতিন জেলেনস্কির অপসারণের ডাক দেওয়ায় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা প্রায় অনিশ্চয়তার মুখে।তবে পুতিনের বক্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইউক্রেন কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তিনি অবৈধভাবে প্রেসিডেন্টের পদ ধরে রেখেছেন এমন অভিযোগ আগেই উড়িয়ে দিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি বারবার বলে এসেছেন, ইউক্রেনের আইন অনুযায়ী, সামরিক আইন চালু থাকাকালীন নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। পাশাপাশি, যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন সম্ভবও নয়।
Leave a comment
Leave a comment
