গরমের দিনে প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা জল পাওয়ার জন্য মাটির কলসি ব্যবহারের প্রচলন বহু পুরনো। এটি শুধু স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়, বরং পরিবেশবান্ধব এবং সহজলভ্য। তবে কলসি ব্যবহারের আগে ও পরে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি, যাতে জল দীর্ঘ সময় ঠান্ডা থাকে এবং বিশুদ্ধ থাকে।
মাটির কলসি ব্যবহারের প্রধান সুবিধা হলো এটি জল প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা রাখে। মাটির ছিদ্রযুক্ত গঠনবিন্যাসের কারণে জল ধীরে ধীরে বাষ্পীভূত হয়, ফলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকে। কলসির জল অ্যালকালাইন হওয়ায় এটি শরীরের অম্লতা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং হজমশক্তি উন্নত করে। এছাড়া প্লাস্টিকের বোতলের তুলনায় কলসির জল অনেক বেশি নিরাপদ এবং স্বাদেও পার্থক্য বোঝা যায়।
নতুন কলসি ব্যবহারের আগে প্রথমে তা ঠান্ডা জলে ২৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা উচিত। এতে কলসির ভেতরের মাটির গুঁড়ো ও দুর্গন্ধ দূর হয়। নতুন কলসি ব্যবহারের আগে ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া জরুরি। কলসির গায়ে কোনো ফাটল বা ছিদ্র থাকলে তা ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ ফাটল থাকলে জল লিক হতে পারে এবং তা দ্রুত গরম হয়ে যেতে পারে।
কলসির ভেতরের অংশ নিয়মিত পরিষ্কার করা দরকার। লেবুর রস ও গরম জল দিয়ে ধুলে দুর্গন্ধ ও ব্যাকটেরিয়া দূর হয়। কলসি ব্যবহারের সময় ঢাকনা সবসময় বন্ধ রাখা উচিত, যাতে ধুলো-বালি ও পোকামাকড় ঢুকতে না পারে। কলসির জল দুই থেকে তিন দিন পরপর পরিবর্তন করা দরকার, যাতে তা বিশুদ্ধ থাকে এবং স্বাদ ভালো থাকে।
কলসি সবসময় ছায়াযুক্ত স্থানে রাখা উচিত। রোদে রাখলে জল দ্রুত গরম হয়ে যেতে পারে এবং কলসির স্থায়িত্ব কমে যেতে পারে। কলসির নিচে একটি কাঠ বা প্লাস্টিকের স্ট্যান্ড ব্যবহার করলে ভারসাম্য বজায় থাকে এবং কলসি দীর্ঘস্থায়ী হয়। কলসি ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকতে হবে যাতে অতিরিক্ত ঠান্ডা জল পান করে গলাব্যথা বা ঠান্ডা না লাগে।
মাটির কলসির জল প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা হওয়ার কারণে এটি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। গরমে কলসির জল পান করলে শরীর শীতল থাকে এবং পানিশূন্যতা দূর হয়। কলসির জল অ্যালকালাইন হওয়ার কারণে এটি শরীরের অম্লতা নিয়ন্ত্রণ করে এবং হজমশক্তি উন্নত করে। এছাড়া এটি শরীর থেকে টক্সিন দূর করতেও সহায়ক।
কলসি ব্যবহারের সময় নিয়ম মেনে চললে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং জল দীর্ঘ সময় ঠান্ডা থাকে। কলসি ব্যবহারের অন্যতম সুবিধা হলো এটি পরিবেশবান্ধব। প্লাস্টিকের বোতল বা ফ্রিজের পরিবর্তে কলসি ব্যবহারে বিদ্যুতের খরচ কমে এবং পরিবেশ রক্ষা হয়।
মাটির কলসি ব্যবহারের ঐতিহ্য অনেক পুরনো হলেও বর্তমানে এটি নতুনভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কলসি ব্যবহারের নিয়ম মেনে চললে এটি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং স্বাস্থ্যগতভাবে উপকার পাওয়া যায়। এটি শুধু জলের স্বাদ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক নয়, বরং পরিবেশের সুরক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
