চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত সীমা নির্ধারণ বৈঠকে কংগ্রেস এবং ভারত রাষ্ট্র সমিতি (বিআরএস)-এর মধ্যে গোপন সমঝোতার অভিযোগ তুলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন। এই বৈঠকে আসন ভাগাভাগি, রাজনৈতিক জোট এবং ভোটব্যবস্থার ন্যায্যতা রক্ষার বিষয়ে আলোচনা হয়। স্টালিন তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন যে কংগ্রেস এবং বিআরএস নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য গোপনে একসঙ্গে কাজ করছে, যা সাধারণ মানুষের স্বার্থবিরোধী।
স্টালিন বলেন, “যে সময়ে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর একসঙ্গে কাজ করা উচিত, তখন কংগ্রেস এবং বিআরএস নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য গোপনে সমঝোতা করছে। এই ধরনের কাজ গণতন্ত্রের পরিপন্থী এবং তা দেশের জনগণের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে বিআরএস এবং কংগ্রেসের এই গোপন সমঝোতার কারণে সীমা নির্ধারণের কাজে পক্ষপাতিত্ব হতে পারে। এতে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সুবিধা হতে পারে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। স্টালিনের মতে, এই সমঝোতার মাধ্যমে ভোট ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এর ফলে নিরপেক্ষ ভোটপ্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।
বৈঠকে উপস্থিত কংগ্রেস নেতারা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তাদের মতে, কংগ্রেস সবসময় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং কোনও গোপন সমঝোতা কংগ্রেসের নীতির পরিপন্থী। কংগ্রেসের এক মুখপাত্র বলেন, “স্টালিন এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাইছেন। কংগ্রেস কখনই এই ধরনের অগণতান্ত্রিক পথে হাঁটে না।”
বিআরএস-এর তরফ থেকেও এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বিআরএস মুখপাত্র জানান, সীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত বৈঠকে কোনও ধরনের গোপন সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি বলেন, “স্টালিন ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে এই অভিযোগ তুলেছেন। বাস্তবে এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটেনি। বিআরএস সবসময়ই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টালিন এই অভিযোগ তুলে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে চাইছেন। স্টালিনের দল ডিএমকে এবং কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক মিত্র। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দলের মধ্যে দূরত্ব দেখা যাচ্ছে। স্টালিন এই অভিযোগ উত্থাপন করে তার দলের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এছাড়া বিশ্লেষকদের মতে, স্টালিনের এই অভিযোগ বিরোধী দলগুলির মধ্যে নতুন করে দ্বন্দ্ব উসকে দিতে পারে। কংগ্রেস এবং বিআরএস-এর মধ্যে যদি সত্যিই কোনও গোপন সমঝোতা হয়ে থাকে, তবে তা আসন্ন নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, স্টালিনের এই অভিযোগের ফলে বিরোধী শিবিরে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা নির্বাচনী সমীকরণে পরিবর্তন আনতে পারে।
স্টালিনের এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন মহল থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। ডিএমকে সমর্থকরা স্টালিনের অবস্থানকে সমর্থন করছেন এবং দাবি করছেন যে কংগ্রেস ও বিআরএস আসলেই গোপনে সমঝোতা করেছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস এবং বিআরএস সমর্থকরা এই অভিযোগকে রাজনৈতিক কৌশল বলে দাবি করছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্টালিন এই অভিযোগ তুলে কংগ্রেস এবং বিআরএস-এর মধ্যে অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছেন। তার দল ডিএমকে-র রাজনৈতিক অবস্থান মজবুত করাই তার মূল লক্ষ্য। এই অভিযোগ ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
সীমা নির্ধারণ বৈঠকে স্টালিনের এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কংগ্রেস এবং বিআরএস-এর মধ্যে সত্যিই কোনও গোপন সমঝোতা হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে স্টালিনের এই অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। আগামী দিনে এই ইস্যু ভারতীয় রাজনীতির গতিপথে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
