তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ও কোল্ডস্টোরেজ ধসের ঘটনার তদন্তে উঠে এল একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন শ্রমিক আটকে ছিলেন, সেই তথ্য এখনও নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না তদন্তকারী সংস্থা। কারণ, যে নির্মাণস্থলে এত বড় প্রকল্পের কাজ চলছিল, সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের কোনও রেজিস্টারই রাখা হয়নি। ফলে কারা কাজ করছিলেন, কতজন উপস্থিত ছিলেন কিংবা এখনও কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা জানতে ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে অ্যাডিশনাল সিপি (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল জানান, ঘটনাস্থল থেকে শ্রমিকদের উপস্থিতির কোনও সরকারি নথি বা রেজিস্টার উদ্ধার হয়নি। এই গাফিলতির কারণেই উদ্ধারকাজের পাশাপাশি তদন্তও জটিল হয়ে উঠেছে। তদন্তকারীরা এখন মৃত ও আহতদের পরিচয়, ঠিকাদার সংস্থা এবং শ্রমিকদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রকৃত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জমিটি লিজ নিয়েছিলেন শম্ভুনাথ বহেরা। প্রথমে তিন ভাইয়ের যৌথ সংস্থা ‘বহেরা ব্রাদার্স’-এর অধীনে কাজ শুরু হলেও পরে একক মালিকানা চলে আসে শম্ভুনাথ বহেরার হাতে। ওই জমিতে গুদাম ও কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণের দায়িত্বে ছিল ঠিকাদারি সংস্থা অয়ন ট্রেডার্স। নির্মাণকাজের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন আসগর হোসেন, যিনি এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুন, খুনের চেষ্টা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক ফৌজদারি মামলা ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কলকাতা পুরসভার অনুমোদনের পরই নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। তাই গুদাম নির্মাণের নকশা, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত নথি কলকাতা পুরসভার কাছে চেয়েছে লালবাজার। প্রয়োজন হলে পুরসভার সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৯ জন। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে থাকতে পারেন। তাই উদ্ধারকারী বাহিনী অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে এই দুর্ঘটনার নেপথ্যে কারও গাফিলতি বা নিয়মভঙ্গ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে সিট।