শিলিগুড়ি পৌর নিগমের রাশ এবার আইএএস আর বিমলার হাতে
শিলিগুড়ি পুর নিগমে নতুন জমানা! দায়িত্ব নিলেন আইএএস আর বিমলা
শিলিগুড়ি পুরনিগমের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটল।শিলিগুড়ি পৌর নিগমের প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটাতে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে আজ, মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশাসকের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন প্রবীণ আইএএস অফিসার আর বিমলা। বর্তমানে তিনি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের সচিব পদের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। আজ সকালে নিগম কার্যালয়ে পৌঁছালে তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান পুর নিগমের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও কর্মচারীরা।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব পদত্যাগ করার পর আইনি নিয়ম মেনেই বর্তমান পুরবোর্ড ভেঙে যায়। এই পরিস্থিতিতে শহরের প্রশাসনিক কাজ সচল রাখা এবং নাগরিকদের দৈনন্দিন পুর-পরিষেবা বজায় রাখার স্বার্থে রাজ্য সরকার এখানে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই নির্দেশিকা অনুসারেই আজ থেকে শহরের প্রশাসনিক অভিভাবক হিসেবে কাজ শুরু করলেন আর বিমলা।
দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনো সময় নষ্ট না করে সরাসরি কর্মতৎপরতা দেখিয়েছেন নতুন প্রশাসক। নিগমের বিভিন্ন বিভাগের শীর্ষ আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে তিনি একটি জরুরি পর্যালোচনা বৈঠক করেন। শহরের বর্তমান প্রশাসনিক পরিকাঠামো এবং বকেয়া প্রকল্পগুলির অগ্রগতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতির ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি।
বর্তমানে উত্তরবঙ্গে লাগাতার বৃষ্টির জেরে শিলিগুড়ির একাধিক ওয়ার্ডে জল জমার সমস্যা দেখা দিয়েছে। বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার কারণে নাগরিকদের ক্ষোভ ও দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর এই জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আর বিমলা বলেন—
"শহরের বাসিন্দাদের দ্রুত এই দুর্ভোগ থেকে স্বস্তি দেওয়াই প্রথম লক্ষ্য। কোন কোন এলাকায় জল জমছে এবং কোথায় অবিলম্বে নিকাশি নালা সংস্কার করা প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে (Emergency Basis) কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি শহরের সমস্ত রাজনৈতিক ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে চলার বার্তা দিয়েছেন নতুন প্রশাসক। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা প্রাক্তন মেয়র গৌতম দেব সহ শহরের সমস্ত স্তরের জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা ও সমন্বয় রেখেই কাজ করবে নতুন প্রশাসক বোর্ড।
শহরের ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বর্ষার মুখে নতুন প্রশাসকের সামনে এখন একাধিক কঠিন চ্যালেঞ্জ। জলজত মুক্তি ছাড়াও ভাঙাচোরা রাস্তার সংস্কার, নিরবচ্ছিন্ন পানীয় জল সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র বা মিউটেশনের মতো জরুরি পরিষেবাগুলি যাতে থমকে না যায়, তা নিশ্চিত করাই হবে আইএএস আর বিমলার প্রধান পরীক্ষা। তবে প্রথম দিনের প্রশাসনিক তৎপরতায় ইতিবাচক ইঙ্গিতই দেখছেন শিলিগুড়ির নাগরিকরা।