আগামী ২৬ জুন মহরম উপলক্ষে কলকাতা শহরে শান্তি, শৃঙ্খলা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে একাধিক কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে লালবাজার। মঙ্গলবার শহরের সমস্ত থানাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এবার কোনও নতুন মহরম শোভাযাত্রার অনুমতি দেওয়া হবে না। শুধুমাত্র দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ও অনুমোদিত ঐতিহ্যবাহী মিছিলগুলিই আগের নিয়ম অনুযায়ী রাস্তায় নামতে পারবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মহরমকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ডিসি পদমর্যাদার আধিকারিকদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন থানার সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। সেই বৈঠকেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য, কোনওভাবেই যাতে উৎসবের আবহে অশান্তি বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

লালবাজারের নির্দেশ অনুযায়ী, মহরমের শোভাযাত্রায় অস্ত্র বা অস্ত্রসদৃশ কোনও বস্তু প্রদর্শন করা যাবে না। অতীতে বিভিন্ন মিছিলে প্রতীকী অস্ত্র বহনের নজির থাকলেও এবার সে বিষয়ে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি তাজিয়ার উচ্চতা নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে আয়োজকদের। অতিরিক্ত উঁচু তাজিয়া তৈরি না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে রাস্তার উপর থাকা বিদ্যুতের তার, কেবল লাইন বা অন্যান্য পরিকাঠামোর কোনও ক্ষতি না হয়।

এবারের মহরমে ডিজে ব্যবহারের উপরও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা থাকছে। পুলিশ জানিয়েছে, মাইক ব্যবহার করা গেলেও তা উচ্চ আদালতের নির্দেশিকা অনুযায়ী নির্ধারিত শব্দসীমার মধ্যেই রাখতে হবে। শব্দদূষণ রোধে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। একই সঙ্গে কোনও ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য, স্লোগান বা সংবেদনশীল বার্তা প্রচার করা যাবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শোভাযাত্রার আয়োজকদের সঙ্গে আগে থেকেই বৈঠক করে রুট, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় থানাগুলিকে। প্রশাসনের মতে, আগাম সমন্বয় থাকলে যে কোনও সম্ভাব্য সমস্যা এড়ানো সম্ভব হবে।

মহরমের দিন শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। যে সব রাস্তা দিয়ে শোভাযাত্রা বের হবে, সেখানে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাতেও বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এবারের প্রধান লক্ষ্য।

লালবাজারের এই কড়া নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে প্রশাসনের দাবি, উৎসব যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং কোনও অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।