কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ একটি চা গুদামের ছাদ ধসে বড়সড় দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে তিনতলা বিশিষ্ট গুদামটির ছাদের ঢালাই চলাকালীন আচমকাই ছাদ ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন বহু শ্রমিক। ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উদ্ধারকাজে নামে দমকল, পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং পরে সেনাবাহিনীও।

প্রাথমিকভাবে বেশ কয়েকজন শ্রমিককে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের ভিতরে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে ভেসে আসা আর্তনাদ উদ্ধারকারীদের কাজ আরও ত্বরান্বিত করেছে। আধুনিক গ্যাস কাটার, ক্রেন এবং অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, বিধায়ক রাকেশ সিং-সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ জানান, মানুষের জীবন বাঁচানোই এই মুহূর্তে সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, দমকল, পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং সেনাবাহিনী যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। দ্রুততার সঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের বের করে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর নবান্নের পক্ষ থেকে বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে একাধিক হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। পরিস্থিতির উপর সরাসরি নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari। প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে উদ্ধারকাজের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ অভিযোগ করেছেন, পূর্ববর্তী তৃণমূল আমলে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে গুদাম নির্মাণের কাজ চলছিল। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বেআইনিভাবে গুদামটি তৈরি করা হচ্ছিল এবং নির্মাণকাজে একাধিক অনিয়ম ছিল। তাঁদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে আগেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রমিকদের পরিবার-পরিজনেরা ঘটনাস্থলে ভিড় জমিয়েছেন। প্রিয়জনদের খোঁজে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তাঁরা। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অনেকেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে দ্রুত উদ্ধার অভিযান সম্পূর্ণ করার চেষ্টা চলছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া প্রত্যেককে নিরাপদে উদ্ধার করাই এখন উদ্ধারকারী বাহিনীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।