আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। আগামী ৩ জুলাই থেকে শুরু হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত অমরনাথ যাত্রা। লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগমকে সামনে রেখে এবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নজির গড়তে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রের খবর, এবারের অমরনাথ যাত্রায় এক লক্ষেরও বেশি নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হবে, যা যাত্রার ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে ৬৭০-রও বেশি কোম্পানির কেন্দ্রীয় আধাসেনা বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাহিনীর অবস্থান গ্রহণের কাজ সম্পূর্ণ হবে। যাত্রাপথের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, বেস ক্যাম্প, পাহাড়ি রুট এবং গুহামন্দির সংলগ্ন এলাকায় কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

শ্রী অমরনাথজি শ্রাইন বোর্ড জানিয়েছে, এ বছর যাত্রা চলবে টানা ৫৭ দিন। ৩ জুলাই শুরু হয়ে ২৮ আগস্ট রাখি পূর্ণিমার দিনে যাত্রার সমাপ্তি ঘটবে। ভক্তরা দুটি প্রধান পথ ব্যবহার করে অমরনাথ গুহায় পৌঁছতে পারবেন। একটি পথ অনন্তনাগ জেলার পাহেলগাম হয়ে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ, অন্যটি গান্দেরবাল জেলার বালতাল রুট, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৪ কিলোমিটার।

যাত্রা শুরুর আগে আগামী ২৯ জুন জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমায় ঐতিহ্যবাহী ‘প্রথম পূজা’ অনুষ্ঠিত হবে। এই পূজার মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে অমরনাথ যাত্রার ধর্মীয় পর্ব। ইতিমধ্যেই জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে ব্যস্ত।

নিরাপত্তার পাশাপাশি তীর্থযাত্রীদের সুবিধার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যাত্রাপথের বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা শিবির, লঙ্গরখানা, বিশ্রাম কেন্দ্র এবং অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলের প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম পথের কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভক্তদের পর্যাপ্ত গরম পোশাক, বৃষ্টির সরঞ্জাম এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর একাংশকে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে মোতায়েন করা হবে, যাতে কোনও ধরনের অনুপ্রবেশ বা জঙ্গি তৎপরতা রুখে দেওয়া যায়। পাশাপাশি ড্রোন নজরদারি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে।

 এবারের অমরনাথ যাত্রাকে ঘিরে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গোটা যাত্রাপথ কার্যত এক সুরক্ষিত দুর্গে পরিণত হতে চলেছে। লক্ষাধিক ভক্তের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।