নির্বাচন মিটে গেলেও পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থামার কোনো লক্ষণ নেই। এবার রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে সরকারি স্কুলের মিড-ডে মিলের মেনু নিয়ে। খুদে পড়ুয়াদের দুপুরের খাবার থেকে ডিম কার্যত উধাও হতে চলায় তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
বিতর্কের সূত্রপাত ঘটেছে রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্তের জেরে।সম্প্রতি বর্তমান শাসকদল বিজেপির সিদ্ধান্তে কলকাতা পুরসভা এলাকার সরকারি স্কুলগুলোর মিড-ডে মিলের রান্নার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হচ্ছে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় সংস্থা ইসকন (ISKCON)-এর হাতে। আর এই পদক্ষেপ ঘিরেই দানা বেঁধেছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। নিজস্ব ধর্মীয় রীতিনীতি ও খাদ্যাভ্যাস মেনে চলার কারণে ইসকনের তৈরি মেনুতে ডিম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিকল্প হিসেবে পড়ুয়াদের পাতে পনির, রাজমা বা সয়াবিন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আসতেই আসরে নেমেছে বিরোধী শিবির। তাদের স্পষ্ট অভিযোগ, এই কৌশলের মাধ্যমে মাছে-ভাতে বাঙালিকে জোর করে নিরামিষ খাওয়ানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। শিশুদের পুষ্টির অধিকার কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি একে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের ওপর আঘাত হিসেবেও দেখছেন বিরোধীরা।
এই ইস্যুতে বুধবার নিজের সামাজিকমাধ্যম 'এক্স-হ্যান্ডল' থেকে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। নির্বাচনী প্রচারের দিনগুলোতে বাঙালির মাছ খাওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন গেরুয়া শিবিরকে।

তীব্র আক্রমণ শানিয়ে ডেরেক তাঁর পোস্টে লেখেন--
“নির্বাচনী প্রচারের সময় ওই মাছ খাওয়া নিয়ে তামাশা করার পর, অবশেষে গুজরাট জিমখানার আসল রূপটা সামনে এল। বাংলায় নতুন বিজেপি সরকারের কাজই এই! বিরোধীদের দিকে ডিম ছুড়ে মারো, আর অন্য দিকে মিড-ডে মিল থেকে ডিম বাদ দিয়ে শিশুদের পুষ্টি থেকে বঞ্চিত করো। জোর করে নিরামিষ আহার চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাংলা এটাকে প্রত্যাখ্যান করছে।”
খুদে পড়ুয়াদের প্রোটিনের অন্যতম প্রধান ও সস্তা উৎস হলো ডিম। মিড-ডে মিলের মেনু থেকে তা বাদ পড়ায় শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন একাংশ। একদিকে ধর্মীয় ভাবাবেগ ও দায়িত্ব হস্তান্তর, অন্যদিকে পুষ্টি ও খাদ্যের অধিকার এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে আপাতত তপ্ত বাংলার রাজনৈতিক মহল। প্রশাসন কীভাবে এই বিতর্কের সামাল দেয়,এখন সেটাই দেখার।